ইসলামের খেদমতের বিবিধ পন্থা

মুসলিম হিসেবে প্রায়শই আমরা এই প্রশ্নের সম্মুখীন হই যে, দ্বীন পালনের জন্য তথা ইসলামের খেদমতের জন্য কোন পন্থাটি সর্বোত্তম, যার মাধ্যমে আমরা আল্লাহর সাথে গভীরতর সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারি। কখনো কখনো এই চিন্তা এমন অবস্থায় পৌছে যে, অন্যসকল কাজকে আমরা একটি কাজের বিপরীতে যেন অনুত্তম বা কম উপকারী বিবেচনা করে ফেলি।

ইমাম মালিককে একবার এই প্রকার প্রশ্ন করা হয়েছিল। তাকে প্রশ্ন করা হয়, কেন দ্বীনের জন্য উপকারী অন্যান্য কাজের চেয়ে তিনি শুধু জ্ঞান অর্জনেই তার অধিক সময় ব্যয় করছেন।

এর উত্তরে তিনি বলেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ তার উত্তম কাজগুলো তার বান্দাদের মধ্যে বিতরণ করে দিয়েছেন যেমনিভাবে তিনি তাদের মধ্যে রিযিকের বন্টন করে দিয়েছেন। এটি এরূপ যেমন, এক ব্যক্তি যেরূপ নামাজ পড়তে পারে, তেমনি হয়তো রোজা রাখতে পারেনা। অন্য এক ব্যক্তির যেরূপ দান করার ক্ষমতা রয়েছে, তেমন হয়তো রোজা রাখার ক্ষমতা নেই… এবং আমি সন্তুষ্ট আল্লাহ আমার জন্য কল্যাণকর হিসেবে যা নির্ধারণ করেছেন (জ্ঞানের অন্বেষা)। আমি মনে করিনা, আমার প্রচেষ্টার বিষয় আপনার প্রচেষ্টার বিষয় থেকে নিম্নতর হবেনা। বরং, আমি আশা করি আমাদের উভয়ের প্রচেষ্টা ন্যায়পূর্ণ ও কল্যানকর হিসেবে বিবেচিত হবে।”

এই বোধগম্যতা আমাদের মুসলিম হিসেবে কাজ করার ক্ষেত্রকে বৃহত্তর করে, আল্লাহর ইবাদত থেকে শুরু করে উত্তম চরিত্র গঠন এবং সমাজের উন্নয়নের জন্য কাজ করা প্রভৃতি সকল প্রকার কাজকেই প্রয়োজনীয় ও কল্যানকর হিসেবে বিবেচনা করতে শিখায়।

অবশ্য এর অর্থ এই নয় যে, কোন একটি কাজে মনোযোগ দেওয়ার মাধ্যমে আমাদের উপর ফরজ কাজগুলো যথা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, রমজানে রোজা রাখা ইত্যাদি আমাদের আদায় করার প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে যায়। বরং, ফরজ কাজগুলো আদায়ের পাশাপাশি আমাদের আগ্রহপূর্ণ কাজের মাধ্যমে আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টি ও ইসলামের জন্য কল্যান করতে পারি।

কুরআনে এই প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, “প্রত্যেকেই নিজ আগ্রহ অনুযায়ী কাজ করে। অতঃপর আপনার পালনকর্তা বিশেষ রূপে জানেন, কে সর্বাপেক্ষা নির্ভূল পথে আছে” (সূরা ইসরা, আয়াত: ৮৪)।

আল্লাহ আমাদের বোধগম্যতাকে সম্প্রসারিত করুন।

ওয়ানপাথ নেটওয়ার্ক অবলম্বনে, মুহাম্মদ আল-বাহলুল

আপনার মন্তব্য