নিষিদ্ধ অজাচার : রক্তের সম্পর্কও যখন শয়তানের কাছে অসহায়

– আইনুল হক কাসেমী

বেচারি এক পুত্রসন্তানের জননী। কয়েক বছর স্বামীর সাথে সংসার করার পর তাদের মধ্যে আর বনিবনা হয় না৷ হরহামেশাই ঝগড়া লেগে থাকে। সংসার হয়ে উঠে জাহান্নামের উত্তপ্ত উনুন। বাধ্য হয়ে স্বামী স্ত্রীকে তালাক দেয়।

মহিলার অন্যত্র বিবাহ হয়৷ সেখানেও কয়েক বছর কেটে যায়৷ একসময় দ্বিতীয় স্বামী মারা যায়। মহিলা পড়ে বিপদে৷ সেখানকার লোকগুলো আর তাকে সহ্য করতে পারে না। চালের নিচে ঠাঁই দিতেও চায় না। মহিলা দ্বিতীয় স্বামীর সংসার ছেড়ে এখানে-ওখানে মানবেতর দিনাতিপাত কর‍তে থাকে।

ইতিমধ্যে প্রথম সংসারের পুত্রসন্তান অনেক বড় হয়ে ওঠে। দেখতে টগবগে নওজোয়ান। মায়ের কষ্টের কথা তার কানে আসে৷ মায়ের জন্য তার দরদ উথলে উঠে। নাড়ির টানে সে মায়ের খুঁজে বের হয়। অবশেষে মাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসে। এদিকে বাড়ির সকলেই নাক সিঁটকায়।

মায়ের জায়গা হয় ছেলের ঘরে৷ যেহেতু মায়ের দরদিয়া ছেলে, সেহেতু অন্য কোথাও ঠাঁই নেই; ছেলের কামরায়ই ঠাঁই হলো। এখন মা ও ছেলে একই ঘরে, একই খাটে ঘুমায়। মা-ছেলে হলে কী হবে; শয়তান তো বসে নেই; সে ফুঁসলাতে থাকে।

মা ভুলে যায় তার পাশে শায়িত যুবকটা তার নাড়িছেঁড়া ধন। ক্ষণিকের জন্য মা মনে করে, এই যুবকটা আরও দশটা যুবকের মতোই। ব্যস, তাদের মধ্যে মাতৃত্বের সম্পর্ক লোপ পেয়ে যায়৷ মায়ের প্ররোচনায় ছেলে মায়ের সাথে ব্যভিচারে মেতে ওঠে। কিন্তু যখন হুঁশ আসে, ততক্ষণে সব শেষ! মা ও ছেলে দুজনেই লিমিট ক্রস করে ফেলেছে৷ শয়তানও নিজ দায়িত্ব আদায় করে কেটে পড়ে৷

সকাল হলে ছেলে আর মায়ের মুখের দিকে তাকাতে পারে না। এভাবে কয়েকদিন কেটে যায়। মায়ের সাথে ছেলে কথা বলে না। বরং ছায়া সহ্য করতে পারে না। মাকে দেখলেই চেহারা কুঁচকে ঝটপট সরে পড়ে৷ ছেলের ঘর মায়ের জন্য সংকীর্ণ হয়ে আসে। একসময় এই দোজখ থেকে রেহাই পাবার জন্য বেচারি আবারও পা বাড়ায় অজানার উদ্দেশে।

এটি নিছক কোনো কাল্পনিক গল্প নয়; বাস্তব সত্য৷ খোদ ছেলেটিই এ ব্যাপারে মাসআলা জানতে চেয়েছে মসজিদের মওলবি সাহেবের কাছে। মওলবি সাহেব এসেছেন আমার কাছে৷ শুনে আমি পুরাই ‘থ’ হয়ে গেলাম। বললাম, এই গোনাহর ওপর আর কোনো গোনাহ হতে পারে? এটা তো বনি ইসরাইলের কালচার! আইয়ামে জাহিলিয়াতের চিত্র! খাঁটি দিলে তাওবা করা ছাড়া কোনো গত্যন্তর নেই!

মওলবিকে বিদায় করে দিয়ে আমি চিন্তার রাজ্যে হারিয়ে গেলাম। এই ক্ষুদ্র বয়সেই তো এরকম আরও কিছু ঘটনা আমার জানা হয়ে গেছে। কখনও মা ও ছেলে, কখনও বাবা ও মেয়ে, কখনও ভাই ও বোনের এরকম চরম গর্হিত কাজের কলিজা বিদীর্ণকারী খবর কানে এসেছে।

আহ! আমাদের সমাজটা আজ যাচ্ছে কোথায়! এই সমাজটা যে একেবারে জাহিলি যুগে ফিরে যাচ্ছে! বনি ইসরাইলের চিত্র এই সমাজে চিত্রিত হচ্ছে! পারিবারিকভাবে দীন না থাকায় জাহিলিয়াতের ভরে গেছে এই সমাজ! মজবুত দীন না থাকলে এই আইয়ামে জাহিলিয়াত রুখবে কে?

এটা তো একটা গ্রাম্য ঘটনা। শহরগুলোর অবস্থা তো আরও খারাপ। সেখানকার সুশীল সমাজের অবস্থা আরও শোচনীয়। এই ইবলিসিকে সুশীলদের অনেকেই সামথিং নজরে দেখে। এটাকে তেমন কেয়ারই করে না। শুধু বাইরের লোকজন না জানলেই চলে- ভাবটা যেন এমন! কী বিশ্বাস হয় না? না হলে একটু খতিয়ে দেখতে পারেন৷

নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আজ থেকে চৌদ্দশো বছর আগে বলে গেছেন, আমার উম্মতের সামাজিক কালচার হবে হুবহু বনি ইসরাইলিদের মতো। বনি ইসরাইলিরা যেভাবে আপন মায়ের সাথে ব্যভিচার করত, আমার উম্মতের অনেকেই অনুরূপ করবে! (জামেউত-তিরমিজি, হাদিস : ২৬৪১)

Leave a Reply

Your email address will not be published.

%d bloggers like this: