পুরুষ মহিলার নামাযের পার্থক্য : নারীর নামাজের ভিন্নতা, আইম্মাহ ও সালাফের দৃষ্টিতে (পর্ব-৫)


মুফতি আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ


৪ ইমামের দৃষ্টিতে মহিলারা যেভাবে নামাজ পড়বে

ফিক্বহে ইসলামীর চারটি সংকলন মুসলিম উম্মাহর মাঝে প্রচলিত। হিজরী শতক এর কিছু পর থেকে এই মাজহাবগুলোর উপর উম্মাহ ১৩০০ বছর যাবত আমল করে আসছে। নারীদের নামাজের ভিন্নতা সম্পর্কে চার মাজহাবের ইমামদের মতামত তুলে ধরা হলো। যথা-

১. ইমাম আবূ হানীফা রহ.

احب الينا ان تجمع رجليها من جانب ولا تنتصب انتصاب الرجل، (كتاب الآثار-1/609)
ইমাম আবু হানীফা রহঃ এর অন্যতম সাগরীদ ইমাম মুহাম্মদ রহঃ বলেন-“ আমাদের নিকট পছন্দনীয় হল, মহিলারা নামাযে উভয় পা একপাশে মিলিয়ে রাখবে। পুরুষের মত এক পা দাঁড় করিয়ে রাখবে না। {কিতাবুল আসার, ইমাম মুহাম্মদ রহঃ-১/৬০৯}

روى امامنا الأعظم عن نافع عن ابن عمر رضى الله عنهما أنه سئل كيف كان النساء يصلين على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ قال كن يتربعن أمرن أن يحتفزن،
أخرجه أبو محمد الحارثى والأشنانى وابن خسرو من طريقه عن سفيان الثورى عنه، راجع جامع الماسانيد-1/400، وهذا أقوى واحسن ما روى فى هذا الباب، ولذا احتج به امامنا وجعله مذهبه وأخذ به،

ইমামে আজম আবু হানীফা র: নাফে রহঃ থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন-“হযরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর রা: কে জিজ্ঞেস করা হল-“রাসূল সা: এর যুগে মহিলারা কিভাবে নামায পড়তেন?” তিনি বললেন-“আগে তারা চারজানু হয়ে বসতেন, পরে তাদেরকে জড়সড় হয়ে বসতে বলা হয়েছে”। {জামিউল মাসানীদ-১/৪০০}

উক্ত হাদিসটি এ বিষয়ে বর্ণিত দলীলগুলোর মধ্যে শক্তিশালী। এ কারণেই ইমাম আবু হানীফা এর দ্বারা দলীল পেশ করেছেন। এ অনুযায়ী আমল করেছেন। এবং এটিকে নিজের মাযহাব বানিয়েছেন। {কিতাবুল আসার এর টিকা-১/৬০৭}

মহিলাদের ক্ষেত্রে পার্থক্যের বর্ণনা হানাফী ফিক্বহের যে কিতাবগুলোতে রয়েছে–

১-বাদায়িউস সানায়ে-১/৪৬৬
২-হেদায়া-১/১০০-১১০
৩-আল মাবসূত লিস সারাখসী-১/৪৬৬
৪-ফতওয়ায়ে শামী-১/৫০৪
৫-ফতওয়ায়ে আলমগীরী-১/৭৩-৭৫
ইত্যাদি —

২- ইমাম মালেক রহ.

মালেকী মাযহাবের প্রসিদ্ধ ফক্বীহ ইমাম আবুল আব্বাস আল কারাফী র: ইমাম মালিক রহঃ এর মত উল্লেখ করেন-
وأما مساواة النساء للرجال ففي النوادر عن مالك تضع فخذها اليمنى على اليسرى وتنضم قدر طاقتها ولا تفرج في ركوع ولا سجود ولا جلوس بخلاف الرجل
নামাযে মহিলা পুরুষের মত কিনা? এ বিষয়ে ইমাম মালিক রহঃ থেকে বর্ণিত। মহিলা ডান উরু বাম উরুর উপর রাখবে এবং যথাসম্ভব জড়সড় হয়ে বসবে। রুকু সেজদা ও বৈঠকে কোন সময়ই ফাঁক ফাঁক হয়ে বসবে না। পক্ষান্তরে পুরুষের পদ্ধতি হল ভিন্ন। {আয যাখীরা-২/১৯৩}

وقال الإمام مالك رحمه الله كما في النوادر لابن أبي زيد 1/186: «تجلس المرأة على وركها الأيسر، وتضع فخذها اليمنى على اليسرى، تضم بعضها إلى بعض، بقدر طاقتها، ولا تفرج في ركوع ولا سجود، ولا جلوس بخلاف الرجل».
ইমাম মালেক বলেন, মহিলারা তার বাম নিতম্বের উপর বসবে। আর ডান উরুকে বা উরুর উপর রাখবে। একটিকে অপরটির সাথে যথাসম্ভব মিলিয়ে রাখবে। রুকু, সেজদা ও বৈঠকে পুরুষের মত ফাঁকা ফাঁকা করে থাকবে না। অর্থাৎ মিলিয়ে রাখবে।
আননাওয়াদের লি ইবনে আবী যায়দ ১/১৮৬৬-

৩- ইমাম শাফেয়ী রহ.

( قال الشافعي ) وقد أدب الله تعالى النساء بالاستتار وأدبهن بذلك رسوله صلى الله عليه وسلم وأحب للمرأة في السجود أن تضم بعضها إلى بعض وتلصق بطنها بفخذيها وتسجد كأستر ما يكون لها وهكذا أحب لها في الركوع والجلوس وجميع الصلاة أن تكون فيها كأستر ما يكون لها (كتاب الأم، باب الذكر في السجود)
ইমাম শাফেয়ী রহঃ বলেন-“আল্লাহ পাক মহিলাদেরকে পুরোপুরি আবৃত থাকার শিক্ষা দিয়েছেন। তার রাসূল সা: ও অনুরূপ শিক্ষা দিয়েছেন। তাই আমার নিকট পছন্দনীয় হল-সেজদা অবস্থায় মহিলারা এক অঙ্গের সাথে অপর অঙ্গ মিলিয়ে রাখবে। পেট উরুর সাথে মিলিয়ে রাখবে। আর সেজদা এমনভাবে করবে যাতে সতরের চূড়ান্ত হেফাযত হয়। অনুরূপ রুকু, বৈঠক ও গোটা নামাযে এমনভাবে থাকবে যাতে সতরের পুরোপুরি হেফাযত হয়। {কিতাবুল উম্ম-১/১৩৮)

وقال الإمام الشافعي رحمه الله كما في مختصر المزني 8/109: «ولا فرق بين الرجال والنساء في عمل الصلاة إلا أن المرأة يستحب لها أن تضم بعضها إلى بعض وأن تلصق بطنها في السجود بفخذيها كأستر ما يكون وأحب ذلك لها في الركوع وفي جميع عمل الصلاة».
ইমাম শাফেয়ী বলেন, পুরুষ আর মহিলার নামাজে আমলগত ভিন্নতা নেই, তবে মহিলাদের জন্যে মুস্তাহাব হচ্ছে সেজদায় এক অঙ্গের সাথে অপর অঙ্গ মিলিয়ে রাখবে। আর পেটকে উরু থেকে পৃথক করবে না। যাতে অধিক সতর রক্ষা হয়। এটা রুকুর ক্ষেত্রেও, বরং নামাজের সব আমল আদায়ের ক্ষেত্রে (সতর হেফাজত করাটা অধিক পছন্দনীয়)!

وينظر المغني لابن قدامة 1/403 والمجموع للنووي 3/526 وحاشية العدوي 1/270 وحاشية الدسوقي 1/249
— ইমাম নববী লিখেন
“ইমাম শাফেয়ী আল মুখতাসার গ্রন্থে বলেন, পুরুষ মহিলার নামাজে পার্থক্য নেই, তবে মেয়েদের জন্যে মুস্তাহাব হলো, তারা এক অঙ্গের সাথে অন্য অঙ্গ মিলিয়ে রাখবে। আর সেজদায় পেটকে উরুর সাথে সম্পৃক্ত করবে। যা সতরের অধিক রক্ষাকারী! এটা রুকুর ক্ষেত্রেও মুস্তাহাব।…

৪- ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহ.

ইমাম আহমদ রহঃ এর ফতওয়া উল্লেখ আছে ইমাম ইবনে কুদামা রহঃ এর আল মুগীনী কিতাবে।
فأما المرأة فذكر القاضي فيها روايتين عن أحمد إحداهما ترفع لما روى الخلال بإسناده عن أم الدرداء وحفصة بنت سيرين أنهما كانتا ترفعان أيديهما وهو قول طاوس ولأن من شرع في حقه التكبير شرع في حقه الرفع كالرجل فعلى هذا ترفع قليلا قال أحمد رفع دون الرفع والثانية لا يشرع لأنه في معنى التجافي ولا يشرع ذلك لها بل تجع نفسها في الركوع والسجود وسائر صلاتها

তাকবীরের সময় মহিলারা হাত উঠাবে কি উঠাবে না? এ বিষয়ে কাজী [আবু ইয়াজ] ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল রহঃ থেকে দু’টি মত উল্লেখ করেছেন। প্রথম মত হল হাত উঠাবে। কেননা খাল্লাল হযরত উম্মে দারদা এবং হযরত হাফসা বিন সীরীন থেকে সনদসহ বর্ণনা করেন যে, তারা হাত উঠাতেন। ইমাম তাউসের বক্তব্যও তাই। উপরন্তু যার ব্যাপারে তাকবীর বলার নির্দেশ রয়েছে তার ব্যাপারে হাত উঠানোরও নির্দেশ রয়েছে। যেমন পুরুষ করে থাকে। এ হিসেবে মহিলারাও হাত উঠাবে। তবে সামান্য। আহমাদ রহঃ বলেন-“তুলনামূলক কম উঠাবে”।

দ্বিতীয় মত হল-“মহিলাদের জন্য হাত উঠানোরই হুকুম নাই। কেননা হাত উঠালে কোন অঙ্গকে ফাঁক করতেই হয়, অথচ মহিলাদের জন্য এর বিধান দেওয়া হয়নি। বরং তাদের জন্য নিয়ম হল রুকু সেজদাসহ পুরো নামাযে নিজেদেরকে গুটিয়ে রাখবে। {আল মুগনী-২/১৩৯}
ইবনে কুদামা হামবলী, আল মুগনীতে আরো বলেন, “নামাজে মহিলা পুরুষ এর বিধান একই। তবে মহিলারা রুকু ও সেজদাতে নিজেদের অঙ্গগুলোকে মিলিত রাখবে। বসার ক্ষেত্রে দু পা ডানে বের করে দিয়ে বসবে। নামাজের ক্ষেত্রে মৌলিক নির্দেশে নারী পুরুষ উভয়েই শামিল। তবে যেহেতু নারীকে হাদিসে ‘আওরাহ’ বলা হয়েছে। তাই তারা পুরুষের রুকু সেজদায় সটান হওয়ার ক্ষেত্রে ভিন্নতা অবলম্বন করবে। কারণ এভাবে সতর রক্ষা হয়! কারণ পুরুষের মত রুকুর সেজদা করতে গেলে আপনি নিশ্চয়তা দিতে পারবেন না যে মেয়েদের সতরের সমস্যা হবে না।

আলী রা. বলেছেন, যখন মহিলারা সালাত আদায় করবে তখন যেন জড়সড় হয়ে থাকে, আর উরুকে পেটের সাথে মিলিয়ে রাখে। ইবনে ওমর রা. থেকে বর্ণিত আছে, তিনি তার ঘরের মহিলাদেরকে নির্দেশ দিতেন, দু পা মিলিত করে ডানে বের করে দিয়ে বসবে।
হামবলী মাজহাবের অপর গ্রন্থ- আল ইনসাফে আছে।

“নামাজের মহিলারা পুরুষের মতই, তবে তারা রুকু ও সেজদায় নিজদেরকে গুটিয়ে রাখবে। অনুরূপ নামাজের অন্যান্য ক্ষেত্রেও। এতে কারো দ্বিমত নেই।”
আল ইনসাফ ফি মারিফাতির রাজিহী মিনাল খেলাফ- ২/৯০

হাদিস বিশারদদের অভিমত –

১/ ইমাম আবু বকর আব্দুর রাজ্জাক আসসানআনী! (২১১ হি.)
ইমাম আব্দুর রাজ্জাক আসসানআনী তার গ্রন্থে “আল মুসান্নাফ” যা মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক নামে প্রসিদ্ধ, এই গ্রন্থের ৩/১২৬-১৩৮ পৃষ্ঠা পর্যন্ত, তিনি নারীদের নামাজ ভিন্নতা প্রমাণে ‘মেয়েদের নামাজে দাঁড়ানো/রুকু করা/বৈঠকে মেয়েরা যেভাবে বসবে’ ইত্যাদি শিরোনামে হাদিস ও আছার উল্লেখ করেছেন।

২/ ইমাম আবু বকর ইবনে আবী শাইবা- (২৩৫ হি.)
ইবনে আবী শাইবা তার হাদিস গ্রন্থ ‘আল মুসান্নাফে’ নারীদের নামাজের ভিন্নতার সপক্ষে বিভিন্ন আছার পেশ করেছেন। তার শিরোনামগুলো খেয়াল করলেই স্পষ্ট হয়, সালাফে সালেহীন মহিলাদের নামাজে ভিন্নতার প্রবক্তা ছিলেন। যেমন তিনি শিরোনাম দিয়েছেন “মহিলারা সেজদারত অবস্থায় যেভাবে থাকবে”, “অধ্যায়: নামাজে মেয়েরা যেভাবে বসবে” ইত্যাদি। (১/২৪২ বা ২/৫০৩-৫০৮)
এই দুই বিদগ্ধ হাদিসের ইমাম, যারা ইমাম বুখারীর পূর্বসূরি, বুখারী তাদের সূত্রে হাদিস বর্ণনাও করেছেন । তাদের কিতাবে আলাদাভাবে শিরোনামই দিয়েছেন, নারীদের নামাজের পার্থক্য প্রমাণ করে।

৩/ ইমাম আহমদ বিন হামবল
ففي مسائل أبي داود ص75 قال:
«سألت أحمد عن المرأة، كيف تسجد؟ قال: تضم فخذيها، قلت لأحمد: فجلوسها مثل جلوس الرجل؟ قال: لا».
ইমাম আবু দাউদ বলেন, আমি আহমদ বিন হামবলকে জিজ্ঞেস করলাম, মহিলারা কীভাবে সেজদা করবে? তিনি বললেন, উরুর সাথে মিলিয়ে জড়সড় হয়ে। তারপর আমি জিজ্ঞেস করলাম, তারা কি পুরুষের মতই বসবে? তিনি বললেন, না পুরুষের মত বসবে না।
মাসায়েলে আবী দাউদ- ৭৫

৪/ ইমাম আবু দাউদ
ইমাম আবু দাউদ, তার মারাসীলে একাধিক হাদিস দিয়ে প্রমাণ করেন যে নারীদের নামাজে রুকু সেজদাতে ভিন্নতা রয়েছে।

৫/ ইমাম তিরমিজী
‘সালাত অধ্যায়’ এর “রুকু অবস্থায় উভয় হাত পেটের পার্শ্বদেশ হতে পৃথক রাখা” শিরোনামে এই হাদিসটি উল্লেখ করেন।
”রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকুর সময় দুই হাত দুই হাঁটুতে রাখলেন। তিনি হাত দু’টোকে টানা তীরের মত (সোজা) রাখলেন এবং পার্শ্বদেশ হতে পৃথক (ফাঁক) করে রাখলেন।”
এরপরে ইমাম তিরমিজী বলেন, “এই আমল আহলে ইলম গ্রহণ করেছেন। যে “পুরুষরা” রুকু ও সেজদাতে তাদের দুহাত পার্শ্বদেশ (পেট) থেকে পৃথক রাখবে।” (হাদিস- ২৬০)

শায়খ আলবানী রহ, ‘আসলু সিফাতিস সালাহ’ গ্রন্থের ২/৬৩৭ পৃষ্ঠায় লিখেন, “ইমাম তিরমিজীর এভাবে পুরুষের সাথে এই বিধানকে খাস করে দেয়ার দ্বারা বোঝা যায়, মহিলারা নামাজে তাদের অঙ্গগুলো পৃথক করবে না। বরং একটি অঙ্গ অপর অঙ্গের সাথে মিলিয়ে রাখবে। এটা হানাফী, শাফেয়ী ও অন্যান্যদের মাজহাব। ইবনে হাজাম এর বিপরীত মত দিয়েছেন।”
(উল্লেখ্য শায়খ রহ. ইবনে হাজামের মতকে গ্রহণ করেছেন। কিন্তু ইবনে হাজামের অবস্থা সম্পর্কে ইতোপূর্বে যা আলোচনা হয়েছে, তাতে বোঝা যায় সকল ইমামের বিপরীতে ইবনে হাজামের মত গ্রহণ করা যায় না)
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, হাদিস বিডি অ্যাপসে ইমাম তিরমিজীর বক্তব্যের যে অনুবাদ দেয়া হয়েছে, তাতে “পুরুষ” শব্দটি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে অথবা ভুলবশত বাদ পরে গেছে।

৬/ ইমাম তাহাবী (৩২১হি.)
শারহু মুশকিলিল আছার ও আহকামুল কুরআন গ্রন্থে বিভিন্ন দলীল দিয়ে প্রমাণ করেছেন, নারীদের নামাজে রুকুর সেজদা ও বৈঠকে পার্থক্য রয়েছে।

৭/ ইমাম বায়হাকী। (৪৫৮ হি.)
তিনিও তার কিতাব, সুনানে বায়হাকী তে (২/২২২) বলেন,
“নামাজে বিভিন্ন বিধানে মহিলাদের ভিন্নতার ক্ষেত্রে মূলত বিবেচ্য বিষয় হচ্ছে সতর। অর্থাৎ, মহিলারা নামাজ ঐভাবে আদায় করতে আদিষ্ট, যেভাবে আদায় করলে অধিক আব্রু হেফাজত হবে। সামনের অধ্যায়গুলোতে এর বিস্তারিত আলোচনা আসছে…”
আহলে হাদিস ও সমধারার আলেমগণ, যাদের মতে নারীদের নামাজ ভিন্ন —

মহিলাদের নামাযের পদ্ধতিতে ইতোপূর্বে যা কিছু উল্লেখ করা হল তথা হাদিস, আসারে সাহাবা, তাবেঈনদের ইজমা, এবং চার ইমামের ঐক্যমত্যের আলোকে যুগ যুগ ধরে অবিচ্ছিন্ন সূত্র পরম্পরায় যেই পার্থক্যের আমল চলে আসছে, সেটাকে গায়রে মুকাল্লিদ (যারা ৪ মাজহাব এর অনুসারী নন) নেতৃস্থানীয় আলেমগণ ও তাদের নিকট যারা বরেণ্য ও গ্রহণযোগ্য আলেম, তারাও স্বীকৃতি দিয়েছেন এবং সেই আলোকে ফতওয়া দিয়েছেন। যেমন,

১/ শায়খুস ইসলাম ইবনে তায়মিয়া রহ. বলেন

. كَذَلِكَ الْمَرْأَةُ أُمِرَتْ أَنْ تَجْتَمِعَ فِي الصَّلَاةِ وَلَا تُجَافِيَ بَيْنَ أَعْضَائِهَا وَأُمِرَتْ أَنْ تُغَطِّيَ رَأْسَهَا فَلَا يَقْبَلُ اللَّهُ صَلَاةَ حَائِضٍ إلَّا بِخِمَارِ وَلَوْ كَانَتْ فِي جَوْفِ بَيْتٍ لَا يَرَاهَا أَحَدٌ مِنْ الْأَجَانِبِ فَدَلَّ ذَلِكَ عَلَى أَنَّهَا مَأْمُورَةٌ مِنْ جِهَةِ الشَّرْعِ بِسَتْرِ لَا يُؤْمَرُ بِهِ الرَّجُلُ حَقًّا لِلَّهِ عَلَيْهَا وَإِنْ لَمْ يَرَهَا بَشَرٌ.

এমনিভাবে মহিলাদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে নামাজে জড়সড় হয়ে থাকতে, অঙ্গগুলোকে পুরুষের মত সমান না করে দিতে। আরো আদেশ দেয়া হয়েছে মহিলারা যেন মাথার চুল ঢেকে রাখে। কারণ হাদিসে এসেছে, আল্লাহ তায়ালা কোন নারীর নামাজ কবুল করবেন না মাথা আবৃতকরণ ব্যতীত। যদিও সে ঘরের এমন কোণে থাকে, যেখানে কেও তাকে দেখছে না।
এই হাদিসটি এ কথার প্রমাণ বহন করে যে, শরীয়ত নারীকে সতর এর কারণে কিছু হুকুম দিয়েছে যা পুরুষকে দেয় নি।
( মজমুয়ায়ে ফতওয়া ২২/১৫০)

يَأْمُرُونَ الْمَرْأَةَ فِي الصَّلَاةِ أَنْ تَجْمَعَ وَلَا تُجَافِيَ بَيْنَ أَعْضَائِهَا وَتَتَرَبَّعَ وَلَا تَفْتَرِشَ وَفِي الْإِحْرَامِ لَا تَرْفَعَ صَوْتَهَا إلَّا بِقَدْرِ مَا تَسْمَعُ رَفِيقَتُهَا وَأَنْ لَا تَرْقَى فَوْقَ الصَّفَا والمروة. كُلُّ ذَلِكَ لِتَحْقِيقِ سَتْرِهَا وَصِيَانَتِهَا وَنُهِيَتْ أَنْ تُسَافِرَ إلَّا مَعَ زَوْجٍ أَوْ ذِي مَحْرَمٍ

নারীদেরকে আদেশ করা হয়েছে তারা যেন নামাজে জড়সড় হয়ে থাকে, অঙ্গগুলোকে পুরুষের মত সমান করবে না। পুরুষের মত পায়ের উপর বসবে না। বরং দু পা বের করে দিয়ে বসবে। এমনিভাবে এহরামেও নির্দেশ দেয়া হয়েছে, নারী কণ্ঠ উঁচু করবে না। তবে এই পরিমাণ উচ্চ আওয়াজে তালবিয়া পড়তে পারবে, যাতে কেবল তার সঙ্গী ব্যক্তি শুনতে পায়। মহিলারা সাফা ও মারওয়াতেও দৌড়াবে না। (কারণ দৌড়ালে শরীরের ভাজ স্পষ্ট হয়ে যায়) আর এর প্রত্যেকটি করা হয়েছে, নারীর সতর রক্ষাকে নিশ্চিত করতে।
(মাজমুয়ায়ে ফতওয়া ৩৪/১৩০)

২/ ইবনু কায়্যিমিল জাওযিয়াহ রহ. বলেন,
وَلِهَذَا شُرِعَ فِي حَقِّ الْإِنَاثِ مِنَ السِّتْرِ وَالْخَفَرِ مَا لَمْ يُشْرَعْ مِثْلُهُ لِلذُّكُورِ فِي اللِّبَاسِ وَإِرْخَاءِ الذَّيْلِ شِبْرًا أَوْ أَكْثَرَ، وَجَمْعِ نَفْسِهَا فِي الرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ دُونَ التَّجَافِي، وَلَا تَرْفَعُ صَوْتَهَا بِقِرَاءَةِ الْقُرْآنِ، وَلَا تَرْمُلُ فِي الطَّوَافِ
এই কারণেই শরীয়তে নারীদেরকে সতর ও নম্র-লজ্জা হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যেটা পুরুষকে দেয়া হয় নাই। যেমন পোশাকের ক্ষেত্রে, আচলের নিম্নভাগ এক বিঘত বা তার চেয়ে বেশি ঝুলিয়ে দেয়া , রুকু সেজদার ক্ষেত্রে জড়সড় হয়ে থাকা, পুরুষের মত অঙ্গগুলোকে পৃথক রাখবে না, ক্বেরাতের সময় কণ্ঠস্বর উঁচু করবে না। তওয়াফের সময় দ্রুত চলবে না।
(যাদুল মায়াদ ৫/৪৪২)

৩/ ইবনে কুদামা হামবলী!
হামবলী ফিকহের শীর্ষ ফকীহদের একজন। সালাফী ও আহলে হাদিস আলেমদের কাছে গ্রহণযোগ্য ও উদ্ধৃতিযোগ্য গ্রন্থ আল মুগনীর মুসান্নিফ। তার মতামত উপরেই উল্লেখ হয়েছে। আশ্চর্যজনক বিষয় হচ্ছে, নারীদের নামাজে পার্থক্য নেই প্রমাণ করতে আল মুগনীর উদ্ধৃতিতে ইবনে কুদামার বক্তব্য পেশ করেছেন কোন এক ভাই বা শায়েখ। তিনি সেখানে অনুবাদ করতে গিয়ে যা করেছেন তা অনেকটা “ওয়ালা তাকরাবুস সালাহ” অর্থ তোমরা নামাজের কাছেও যেয়ো না এর মত হয়ে গেছে। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন “তোমরা নামাজের কাছে যেও না যখন মাতাল থাকো”, মাতাল থাকো এই অংশ বাদ দিয়ে অনুবাদ করলে যা হয়, ইবনে কুদামা হামবলীর অনুবাদের ক্ষেত্রেও তাই করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে
//ইবনে কুদামাহ (রহঃ) বলেন “প্রকৃতপক্ষে পুরুষ এবং মহিলাদের জন্য নামাযের পদ্ধতি এক বলেই প্রমাণিত হয়েছে শুধুমাত্র এটা ছাড়া যে তার জন্য রুকু এবং সিজদার সময় নিজেকে আবৃত রাখা মুস্তাহাব” [আল মুগনি ২/২৫৮] //

ইবনে কুদামার বক্তব্য আগেই উল্লেখ করা হয়েছে। এখানে কেবল আরবীটুকু দেয়া হচ্ছে, যাতে অনুবাদের বাস্তবতাটা স্পষ্ট হয়।
[مَسْأَلَة يَثْبُتَ فِي حَقِّ الْمَرْأَةِ مِنْ أَحْكَامِ الصَّلَاةِ مَا يَثْبُتُ لِلرِّجَالِ]
(783) مَسْأَلَةٌ: قَالَ وَالرَّجُلُ وَالْمَرْأَةُ فِي ذَلِكَ سَوَاءٌ، إلَّا أَنَّ الْمَرْأَةَ تَجْمَعُ نَفْسَهَا فِي الرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ وَتَجْلِسُ مُتَرَبِّعَةً أَوْ تَسْدُلُ رِجْلَيْهَا فَتَجْعَلُهُمَا فِي جَانِبِ يَمِينِهَا. الْأَصْلُ أَنْ يَثْبُتَ فِي حَقِّ الْمَرْأَةِ مِنْ أَحْكَامِ الصَّلَاةِ مَا يَثْبُتُ لِلرِّجَالِ؛ لِأَنَّ الْخِطَابَ يَشْمَلُهَا، غَيْرَ أَنَّهَا خَالَفَتْهُ فِي تَرْكِ التَّجَافِي، لِأَنَّهَا عَوْرَةٌ، فَاسْتُحِبَّ لَهَا جَمْعُ نَفْسِهَا، لِيَكُونَ أَسْتَرَ لَهَا، فَإِنَّهُ لَا يُؤْمَنُ أَنْ يَبْدُوَ مِنْهَا شَيْءٌ حَالَ التَّجَافِي. وَكَذَلِكَ فِي الِافْتِرَاشِ، قَالَ أَحْمَدُ: وَالسَّدْلُ أَعْجَبُ إلَيَّ. وَاخْتَارَهُ الْخَلَّالُ.
قَالَ عَلِيٌّ، كَرَّمَ اللَّهُ وَجْهَهُ: إذَا صَلَّتْ الْمَرْأَةُ فَلْتَحْتَفِزْ وَلْتَضُمَّ فَخِذَيْهَا. وَعَنْ ابْنِ عُمَرَ – رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا -، أَنَّهُ كَانَ يَأْمُرُ النِّسَاءَ أَنْ يَتَرَبَّعْنَ فِي الصَّلَاةِ.

৪/ দাউদ গজনবী ও আব্দুল জাব্বার গজনবী রহ. (আহলে হাদিস আলেম)
মাওলানা মুহাম্মদ দাউদ গযনবী র: এর পিতা আল্লামা আব্দুল জাব্বার গযনবী রহঃ কে যখন জিজ্ঞেস করা হল-“মহিলাদের নামাযে জড়সড় হয়ে থাকা কি উচিত?” জবাবে তিনি একটি হাদিস উল্লেখ করার পর লেখেন-“এর উপরই আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের চার মাযহাব ও অন্যান্যের মাঝে আমল চলে আসছে”।
এরপর তিনি চার মাযহাবের কিতাবের উদ্ধৃতি প্রদান করার পর লিখেন-“মোটকথা মহিলাদের জড়সড় হয়ে নামায পড়ার বিষয়টি হাদীস ও চার মাযহাবের ইমামগণ ও অন্যান্যের সর্বসম্মত আমলের আলোকে প্রমাণিত। এর অস্বীকারকারী হাদীসের কিতাবসমূহ ও উম্মতে মুসলিমার সর্বসম্মত আমল সম্পর্কে বেখবর ও অজ্ঞ”। (ফতওয়ায়ে গযনবীয়্যা-২৭-২৮, ফতওয়ায়ে ওলামায়ে আহলে হাদিস—৩/১৪৮-১৪৯, মাযমুয়ায়ে রাসায়েল-মাওলানা মুহাম্মদ আমীন সফদর-১-৩১০-৩১১)

৫/ মাওলানা আলী মুহাম্মদ সাঈদ (আহলে হাদিস আলেম)
তিনিও “ফতওয়ায়ে ওলামায়ে আহলে হাদিস” এ এই পার্থক্যের কথা স্বীকার করেছেন। (মাজমুয়ায়ে রাসায়েল-১/৩০৫)

৬/ নওয়াব সিদ্দীক হাসান খান রহ. (আহলে হাদিস আলেম)
প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস, আহলে হাদিস ও সালাফী ঘরানার বরেণ্য আলেম, নওয়াব সিদ্দীক হাসান খান বুখারী শরীফের ব্যাখ্যাগ্রন্থ “আওনুল বারী” (১/৫২০) তে নারীদের নামাজের পার্থক্য বিভিন্ন হাদিস এর আলোকে প্রমাণ করেছেন।

৭/ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল আমীর ইয়ামানী রহ.
একইধারার অপর মুহাদ্দিস মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল আমীর ইয়ামানী “সুবুলুস সালাম” শরহু বুলুগিল মারাম” গ্রন্থে (১/৩৫১-৩৫২) বিভিন্ন হাদিসের আলোকে পুরুষ ও মহিলার সেজদার পার্থক্য করেছেন।

৮/ শাইখ ইসহাক (সালাফি আলেম)

পাকিস্তান এর বিখ্যাত সালাফি ও আহলে হাদিস শায়েখ, মৌলভী ইসহাক সাহেব বলেন “মাগার ইয়ে বাত পুরি উম্মাত কা ইজমা কী খেলাফ… অর্থাৎ নারী পুরুষের নামাজের পার্থক্য নেই, এমনটা বলা হয়। কিন্তু এই কথাটা পুরো উম্মাহর ইজমার বিপরীত। সমস্ত উম্মাত, সাহাবা তাবেয়ী থেকে নিয়ে যত আলেম অতিবাহিত হয়েছেন, কারো এ ব্যাপারে দ্বিমত ছিল না যে মহিলাদের নামাজ পুরুষের চেয়ে ভিন্ন। মহিলাদের নামাজ তো ঐভাবেই পড়া উচিত যেভাবে পড়লে পর্দা রক্ষা হবে, সতর অস্পষ্ট থাকবে। কোন অঙ্গ পুরুষের মত উঁচিয়ে থাকবে না।”
শায়খ ইসহাক এর ভাষায়, পুরো উম্মাহর হাজার বৎসর যাবত চলে আসা আমলের বিপরীত ফতোয়া দেয়াটা “একটা ফিতনা”!

তিনি আরো বলেন, “দেখুন। আপনারা যখন হজ্বের ক্ষেত্রে মেয়েদের তালবিয়া পাঠের ক্ষেত্রে বলেন যে মেয়েরা অনুচ্চস্বরে তালবিয়া পাঠ করে। তখন আপনারা বলেন যে “এভাবেই আহলে ইলমরা বলে আসছেন”! এক্ষেত্রে তো আহলে ইলম এর কথাকে মানছেন। অথচ রাসূল সা. উঁচু আওয়াজে তালবিয়া পাঠের নির্দেশ দেয়ার সময় কি বলে দিয়েছেন, যে এটা কেবল পুরুষের জন্যে? তিনি তো ঐভাবেই নির্দেশ দিয়েছেন ব্যাপকভাবে। যেমনটা নামাজে বলেছেন। তাহলে তালবিয়ার ক্ষেত্রে নারীকে আলাদা করছেন কেন? আর নামাজের ক্ষেত্রে একসাথে গুলিয়ে ফেলছেন। সাফা মারওয়াতে কি মেয়েরা দৌড়াবে? সেখানে তো বলেন মেয়েরা দৌড়াবে না। কারণ দৌড়ালে পর্দার খেলাফ হবে। দেহের আকৃতি ফুটে উঠবে। অথচ রাসূল সা. তো সেখানে নারী পুরুষকে আলাদাভাবে কিছু বলেন নাই। সেখানে কেন নারীকে পৃথক করা হলো?… ”

ভিডিও দুটি দেখুন এই লিংকে,
https://www.youtube.com/watch?v=eR0CFMra8v0
https://m.youtube.com/watch?v=mX4n6a12eA0

৯/ শাইখ আব্দুল কাইউম (সালাফি শাইখ)

একই ঘরানার বাংলাদেশী আলেম, যুক্তরাজ্যপ্রবাসী শাইখ আব্দুল কাইয়ুমও নারীদের নামাজের পার্থক্যের কথা বর্ণনা করেছেন
https://m.youtube.com/watch?v=-w8q0pewgkA

১০/ শাইখ সালেহ আল মুনাজ্জিদ হাফিজাহুল্লাহ
islamqa তে এই বিষয়ে দুটি প্রশ্নের উত্তর দেখেছিলাম । যার একটিতে শায়খ আলবানী রহ. এর মতামত অনুযায়ী তারা বলেছেন নারী পুরুষের নামাজে ভিন্নতা নেই। অপর আরেকটি ফতোয়া তারা দিয়েছেন, সেখানে শায়খ আলবানির মতের বিপরীত মতগুলো উল্লেখ করেছেন। যেমন, ইমাম ইবনে কুদামা হামবলী, ইমাম নববী প্রমুখদের মতামত উল্লেখ করে সে অনুযায়ী ফতোয়া দিয়েছেন। যাতে স্পষ্ট করেই বলা আছে নারীদের রুকু সেজদা পুরুষদের চেয়ে ভিন্ন। লিংক
https://islamqa.info/ar/1106

(আগামী পর্বে সমাপ্য ইনশা আল্লাহ)


১ম পর্বের লিংক https://adarshanari.com/ibadaat/namaz/8191/

২য় পর্বের লিংক https://adarshanari.com/ibadaat/namaz/8197/

৩য় পর্বের লিংক https://adarshanari.com/ibadaat/namaz/8203/

৪র্থ পর্বের লিংক https://adarshanari.com/ibadaat/namaz/8209/

 

4 thoughts on “পুরুষ মহিলার নামাযের পার্থক্য : নারীর নামাজের ভিন্নতা, আইম্মাহ ও সালাফের দৃষ্টিতে (পর্ব-৫)

  1. ধারাবাহিকভাবে মাসআলটি পড়ে অনেক অজানা বিষয় জানতে পেরে আপনাদেরকে অসংখ্য মোবারকবাদ

  2. আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লহি ওয়া বারাকাতুহ। প্রবন্ধটি অনেক চমৎকার, এবং আমাদের মত প্রবাসীদের জন্য অনেক উপকারী হয়েছে। অনুগ্রহ করে শেষ পর্ব তাড়াতাড়ি দিলে ভাল হয়। আমাদের এখানে খুবই জরুরী। জাযাকুমুল্লহ। সালাম।
    জাবের, জাপান থেকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *