অনলাইনে আমেরিকান মুসলিম ক্রীতদাসের আরবীতে লিখিত আত্মজীবনি

মার্কিন লাইব্রেরি অব কংগ্রেস দেশটির একমাত্র টিকে থাকা আরবীতে লিখিত মার্কিন ক্রীতদাসদের বিবরণ অনলাইনে প্রকাশ করেছে।

গত ১৫ই জানুয়ারী, মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে লাইব্রেরি অব কংগ্রেস জানায়, লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত যুক্তরাষ্ট্রে ক্রীতদাস হিসেবে আগত আফ্রিকান মুসলিম ওমর ইবনে সাইদের কাছ থেকে প্রাপ্ত মূল সংগ্রহে মোট ৪২টি প্রামান্য দলীল ছাড়াও ১৫ পৃষ্ঠার একটি আত্মজীবনিও ছিল।

দুর্লভ এই আত্মজীবনি থেকে মার্কিন ক্রীতদাসদের অবস্থার পাশাপাশি আমেরিকায় ইসলাম ও মুসলমানদের প্রাথমিক ইতিহাস সম্পর্কে জানা যাবে।

১৮৩১ সালের দিকে রচিত এই গ্রন্থে ওমর তার অভিজ্ঞতা এবং তার গল্প তৈরির অসাধারন ক্ষমতার কথা উল্লেখ করেছেন।

লাইব্রেরির আফ্রিকান ও মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিভাগের প্রধান মেরি-জেন দিব বলেন,“এটির গুরুত্ব এমন যে, সাইদের মালিকের দ্বারা সম্পাদিত নয়, যেরূপ অন্যান্য কৃতদাসদের ইংরেজিতে লিখিত আত্মজীবনি সম্পাদিত, এবং এই কারনে এটি অধিক নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য।”

দিব আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসা অনেক কৃতদাসেরই ইসলাম পালনের কথা এতে বলা হয়েছে, যা এ বিষয়ে নতুন ধারনার তৈরি করেছে।

লাইব্রেরি অব কংগ্রেসের বিবৃতিতে বলা হয়,“আত্মজীবনিটি তাদের জন্য ঐতিহাসিকভাবে একটি অনন্য ও গুরুত্বপূর্ণ উৎস হবে, যারা পশ্চিম আফ্রিকার মুসলিম সমাজ এবং আটলান্টিক সাগরজুড়ে দাস ব্যবসার ফাঁদে পরে ক্রীতদাস হিসেবে বন্দী হওয়া ইসলাম পালনকারী ক্রীতদাসদের মধ্যকার সম্পর্ক বোঝার প্রচেষ্টা করছেন।”

লাইব্রেরি রেকর্ড এবং আত্মজীবনির তথ্যানুসারে, ইবনে সাইদ পশ্চিম আফ্রিকার ফুলানি নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর এক উচ্চশিক্ষিত ও অর্থশালী পরিবারের সদস্য ছিলেন। পশ্চিম আফ্রিকা ও সাহিল অঞ্চলের বৃহত্তম জনগোষ্ঠীটির অনেক সদস্যই ইউরোপীয় ঔপনিবেশিকদের হাতে পরে ক্রীতদাসে পরিণত হয়ে আফ্রিকা থেকে আটলান্টিক পাড়ি দিতে বাধ্য হন। বর্তমানে নাইজার, নাইজেরিয়া, গিনি, সেনেগাল, মালি সহ পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ফুলানিদের মোট চার কোটির মত জনসংখ্যা রয়েছে।

আপনার মন্তব্য