এবার শবে বারাআত কবে? কোনদিন কী আমল করবো?

মুফতি আবুল হাসান শামসাবাদী


সরকারের জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি বলছে, আকাশ মেঘলা থাকায় শা‘বানের চাঁদ সেদিন দেখা যায়নি। তাই ২১ এপ্রিল দিবাগত রাতে শবে বারাআত।

অপরদিকে বেসরকারী উলামায়ে কিরাম নিয়ন্ত্রিত রু‘য়াতে হিলাল কমিটি বলছে, সেদিন খাগড়াছড়ি, মুন্সীগঞ্জ প্রভৃতি কয়েকটি এলাকায় অনেকেই চাঁদ দেখেছেন। তাই ২০ এপ্রিল দিবাগত রাতে শবে বারাআত।

তাহলে এবার আইয়ামে বীজ হিসেবে এবং শবে বারাআতেরও ফজীলত লাভের মানসে ২০, ২১ ও ২২ এপ্রিল ৩দিন রোযা রাখুন। পারলে সাথে ১৯ এপ্রিল নফল হিসেবে অতিরিক্ত রোযা রাখতে পারেন। (তাহলে উভয় কমিটির হিসেবে আইয়্যামে বীজ-এর রোযা আদায় হবে, আবার শা‘বান মাসে অতিরিক্ত নফল রোযা রাখার ফজীলত হাসিল হবে।)

তবে কম রাখতে চাইলে শবে বারাআতের রোযা হিসেবে ২২ এপ্রিল রোযা রাখুন এবং পারলে ২১ এপ্রিলও রোযা রাখুন। তাহলে ইখতিলাফ থেকে বাঁচা যাবে এবং রোযা বেশী আদায় করা ভাল কাজ।

আর শবে বারাআতের ফজীলত লাভের উদ্দেশ্যে ২০ ও ২১ এপ্রিল উভয় দিবাগত রাতে (এবং ইচ্ছা হলে আরো যত রাত ইচ্ছা নফল বন্দেগীর নিয়তে) ব্যক্তিগতভাবে অতিরিক্ত ইবাদত-বন্দেগী করুন, নফল নামায, জিকির-তাসবীহ ও কুরআন তিলাওয়াত করুন। তাহলে কোন ইখতিলাফ থাকবে না। আবার ইবাদতও বেশী হবে। নফল ইবাদত যত বেশী করা যায়, ততই ভাল এবং রামাজানের পূর্বে ২/১ দিন ছাড়া শা‘বান মাস পুরোটাই রোযা রাখা যায়।

বস্তুত এ মাহে শা‘বান পুরোটাই বিশেষ ফজীলতের মাস। এ মাসে রাসূলুল্লাহ (স): বেশী বেশী রোযা রাখতে ভাল বাসতেন। তিনি সাধারণত এ মাসের অধিকাংশ দিন একটানা রোযা পালন করতেন বলে বুখারী ও মুসলিম সংকলিত হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। এমনকি বুখারী ও মুসলিমের কোনো কোনো হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি শা’বান মাস পুরোটাই নফল সিয়ামে কাটাতেন। তিনি এ মাসে কিছু সিয়াম পালন করতে সাহাবীগণকে উৎসাহ প্রদান করতেন। (সহীহ বুখারী, ২/৬৯৫, ৭০০; সহীহ মুসলিম, ২/৮১০-৮১১, ৮২০)

অপরদিকে মুসনাদে আহমদ, সুনানে নাসাঈ প্রভৃতি হাদীস গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, শা‘বান মাসে বান্দার আমল আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয়। এজন্য এই মাসে বেশী বেশী নফল রোযা পালন করা উচিত। (সুনানে নাসাঈ, ৪/২০১; মুসনানে আহমাদ, ৫/২০১)

তবে রামাজানের ২/১ আগে রোযা না রাখা বাঞ্ছনীয়। যাতে রামাজানকে আগে নিয়ে আসা না হয়। তবে যদি কারো এ সময়ে রোযা রাখার পূর্ব আদত চলে থাকে, সেটা ভিন্ন কথা। এ সম্পর্কে হযরত আবু হুরাইরা (রা.) বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, “তোমাদের কেউ রামাজানের একদিন বা দু’দিন পূর্বে নফল রোযা রাখবে না। তবে কেউ যদি প্রতিমাসে এ সময় রোযা রাখতে অভ্যস্ত হও, তাহলে রাখতে পার। (সহীহ বুখারী, ১/৩৩৪)

Leave a Reply

Your email address will not be published.

%d bloggers like this: