মাদরাসা ধ্বংস হয়ে গেলে ইসলামও ধ্বংস হয়ে যাবে : দেওবন্দের নায়েবে মুহতামিম

আল্লামা আব্দুল খালেক সাম্ভলী

বৃহত্তম দ্বীনী বিদ্যাপীঠ দারুল উলুম দেওবন্দ ভারত-এর নায়েবে মুহতামিম আল্লামা আব্দুল খালেক সাম্ভলী বলেছেন, কুরআনের শিক্ষা যতদিন দুনিয়ায় চলতে থাকবে, যতদিন দুনিয়ায় হক্কানী আলেমগণ বর্তমান থাকবেন, যতদিন দুনিয়াতে মাদরাসা থাকবে ততদিন দুনিয়ায় ইসলাম টিকে থাকবে। আর এগুলো ধ্বংস হয়ে গেলে ইসলামও ধ্বংস হয়ে যাবে। এ জন্যই যুগে যুগে ইসলামের শত্রুরা ইসলামকে ধ্বংস করার জন্য সর্বপ্রথম কুরআন, আলেম ও মাদরাসাগুলোকে তাদের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে।

বাংলাদেশ কওমী মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড ( বেফাক) এর নেত্রকোনার জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত, বুধবার (২৮ নভেম্বর) সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৩ টা পর্যন্ত জেলা শহরের মুক্তারপাড়া ঈদগাহ্ ময়দানে অনুষ্ঠিত এক ইসলামী মহাসম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আল্লামা আব্দুল খালেক সাম্ভলী দৃষ্টান্ত দিয়ে বলেন, ইসলামের সোনালী যুগে এক সময় সুদূর স্পেন পর্যন্ত ইসলাম পৌঁছে যায় এবং সেখানে কর্ডোভা শহরে কর্ডোভা মসজিদ ও জামিয়া কর্ডোভা নামে মাদরাসা গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে খ্রিস্টানরা স্পেন দখল করার পর তারা সে দেশ থেকে ইসলামকে সমূলে ধ্বংস করার জন্য সর্বপ্রথম কর্ডোভা মাদরাসা ও মসজিদ ধ্বংস করে দেয়। পরে অসংখ্য আলেম উলামাদের তলা ছিদ্র জাহাজে উঠিয়ে সমুদ্রে ভাসিয়ে দেয় এবং তারা সমুদ্রে ডুবে মৃত্যু বরন করেন। সেখানে ইসলামকে ধ্বংসের ষড়যন্ত্র মাদরাসা ধ্বংসের কারণেই সম্ভব হয়েছিল।

আল্লামা আব্দুল খালেক সাম্ভলী

তিনি উদাহরণ স্বরূপ আরো উল্লেখ করেন, তাফসিরে হাক্কানীর লেখক বলেন, একবার দিল্লি শহরে ইংরেজরা উচ্চমূল্যে কুরআন শরীফ ক্রয় করতে লাগল। তিনি তাদের জিজ্ঞেস করলেন, তোমারা কুরআন শরীফ কেন ক্রয় করছো? তারা জবাবে বললো, আমরা এগুলো ধ্বংস করে দিব যাতে ইসলাম ধ্বংস হয়ে যায়। তখন তাফসিরে হাক্কানীর লেখক তাদেরকে একটি হাফেজি মাদরাসায় নিয়ে গেলেন এবং হাফেজ ছাত্রদের তেলাওয়াত শুনিয়ে বললেন, তোমরা কাগজে লিখিত কুরআন ধ্বংস করতে পারলেও মহান আল্লাহ তা’আলা আপন কুদরতে এই কচি শিশুদের অন্তরে যে কুরআন মাহফুজ করেছেন তা কোনদিন ধ্বংস করতে পারবেনা!

আল্লামা আব্দুল খালেক সাম্ভলী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিখ্যাত হাদীস ‘তোমাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ঐ ব্যক্তি যে কুরআন মাজীদ শিক্ষা করে এবং শিক্ষা দেয়’ উল্লেখ করে বলেন, কুরআনের শিক্ষায় শিক্ষিতরাই শ্রেষ্ঠ মানুষ। ‘ইলম’ দ্বীনের গুরুত্বপূর্ণ ও মৌলিক বিষয়। মহান আল্লাহ্ তাআ’লা সর্ব প্রথম পবিত্র কুরআনে যে আয়াতগুলো নাযিল করেছেন সেগুলোতে ইলম অর্জনের হুকুম করেছেন অর্থাৎ পড়তে বলেছেন।

এছাড়াও রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে মহান আল্লাহ্ যে কয়টি বিশেষ দায়িত্ব দিয়েছেন তার মধ্যে একটি হচ্ছে মানুষকে আল্লাহর কিতাব তথা কুরআন শিক্ষা দেওয়া। আর এ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কী জীবনে দারুল আরকামে ইলমী কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন এবং মদীনার জীবনে আহলে সুফফায় ইলমী কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। যেখানে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন হযরত আবু হুরাইরাহ রাদিআল্লাহু আনহু, হযরত সালমান ফারসী রাদিআল্লাহু আনহু, হযরত বিলাল হাবসী রাদিআল্লাহু আনহু এবং হযরত সুহাইল রুমী রাদিআল্লাহু আনহুর মত বড় বড় সাহাবী।

শেষে তিনি ইলম শিক্ষার প্রতি বিশেষ তাগিদ প্রদান করেন এবং জীবনের সর্বক্ষেত্রে উলামায়ে কেরামের নির্দেশিত পথে চলার জন্য উপস্থিত তাওহীদী জনতাকে আহ্বান জানান।

এছাড়াও উক্ত সম্মেলনে উপস্থিত আলেম উলামা, মাদরাসার ছাত্র ও তাওহীদী জনতার উদ্দেশ্যে সময়োপযোগী ও বিশেষ দিকনির্দেশনা মূলক বয়ান করেন বেফাকের সহ-সভাপতি মাওলানা আনোয়ার শাহ, মহাসচিব মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ সাদী প্রমুখ।

আপনার মন্তব্য