যে আমলে ঈমান বৃদ্ধি পায়

মেহেদী হাসান সাকিফ

ঈমান মুমিনের জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পদ।একজন মুমিন ঈমানের বদৌলতে দুনিয়ার জীবনে যেমন মহান আল্লাহর রহমত ও বরকত লাভ করেন।তেমনিভাবে মৃত্যুর পরবর্তী জীবনেও চিরসুখের জান্নাত লাভ করবেন।কিন্তু বড়ই পরিতাপের বিষয় এই যে,আমাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক জীবনে আমরা ইসলামের অন্যান্য আমলের বিষয়ে যতটা সচেতন ঈমানের বিষয়ে ততটাই অসচেতন। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাতেও ঈমান শিক্ষার বিষয়টি একেবারেই অবহেলিত। আমাদের আধুনিক জীবনে গোটা জীবনটাই হয়ে গেছে দুনিয়ামুখি। আমরা নামাজ পড়ি চিন্তা করি সুস্থতা আনবে! রোজা রাখি আলসার সারবে।যা মোটেও ঠিক নয়। যা মুমিনের সবচেয়ে বড় পরাজয়, সবচেয়ে বড় ক্ষতি।আমরা একমাত্র আল্লাহকে রাজি-খুশি করার জন্য আমল করব যা আল্লাহর নিকট আমল কবুলের পূর্বশর্ত।যা আমাদের ঈমান বৃদ্ধিতে মুখ্য ভূমিকা পালন করবে।

আমাদের ঈমান বৃদ্ধির জন্য ইসলামের ফরজ বিধান যথাযথভাবে পালন করতে হবে।পাশাপাশি কবীরাগুনাহ পরিত্যাগ করতে হবে। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয় সাল্লাম বলেছেন: “কোন যিনাকারী যখন যিনা করে তখন তার ঈমান থাকে না”[সহিহ বুখারী (২৪৭৫)

আমাদেরকে বেশি বেশি নেককার লোকদের সাহচর্য গ্রহণ করতে হবে। যা আমাদেরকে বেশি বেশি নেক আমলের দিকে ধাবিত করবে ও গুনাহ থেকে বিরত রাখতে সহায়তা করবে।এ বিষয়ে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে ঈমানদাররা, আল্লাহকে ভয় করো এবং সত্যবাদীদের সঙ্গে থাকো।’ (সুরা : তাওবা, আয়াত : ১১৯)

আমাদেরকে বেশি বেশি নেক আমলের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। যিনি যত বেশি নেক আমল করবেন তার ঈমান ততোবেশি বৃদ্ধি পাবে।আল্লাহ পবিত্র কুরআনের জায়গায় ঈমান আনয়নের সাথে আমলে সালেহ (অর্থাৎ নেক আমল) করার পরামর্শ দিয়েছেন।

আল্লাহর গুণবাচক নাম ও গুণাবলী সম্বন্ধে সম্পর্কে বেশী জ্ঞান অর্জন করতে হবে। আল্লাহর গুণবাচক নাম,গুণাবলী, বড়ত্ব, মহত্ত্ব সম্বন্ধে আমাদের জ্ঞান যত বৃদ্ধি পাবে আমাদের ঈমান তত বাড়বে।
বেশি বেশি অর্থ বুঝে ধীরস্থিরভাবে কুরআনের তেলাওয়াত করতে হবে। আল্লাহ বলেন “মুমিন তো তারা, যাদের অন্তরসমূহ কেঁপে উঠে যখন আল্লাহকে স্মরণ করা হয়। আর যখন তাদের উপর তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করা হয় তখন তা তাদের ঈমান বৃদ্ধি করে এবং যারা তাদের রবের উপরই ভরসা করে।(সূরা আনফাল, আয়াত২)

আমাদেরকে বেশি বেশী প্রিয় নবীজীর বিশুদ্ধ জীবনী ও সাহাবীদের জীবনী পাঠ করতে হবে।আল্লাহ তাআলা বলেন,
..মানুষ যেভাবে ঈমান এনেছে তোমরাও সেভাবে ঈমান আনো…।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৩)

এ আয়াতের তাফসিরে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, মুহাম্মদ (সা.)-এর সাহাবারা যেভাবে ঈমান এনেছে, তোমরাও সেভাবে ঈমান আনো।’ (তাফসিরে তাবারি, সংশ্লিষ্ট আয়াত)
দুনিয়ার জীবনের তুচ্ছতার কথা বেশি বেশি স্মরণ করতে হবে।আখিরাতমুখি জীবন গঠন করতে হবে।রাসূল (সা.) বলেছেন, যদি দুনিয়ার মূল্য আল্লাহর কাছে মাছির একটি পাখার সমমূল্য হত, তা‘হলে তিনি কোন কাফিরকে এক ঢোকও পানি পান করতে দিতেন না (আহমাদ, মিশকাত হা/৫১৭৭)।

আল্লাহর জন্য মানুষকে ভালোবাসা ও আল্লাহর জন্যই ঘৃণা করার আমলের বেশি বেশি প্রাকটিস করতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে আল্লাহর জন্য ভালোবাসে, আল্লাহর জন্য ঘৃণা করে, আল্লাহর জন্য প্রদান করে এবং আল্লাহর জন্য প্রদান থেকে বিরত থাকে, সে ঈমান পরিপূর্ণ করেছে।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৬৮১)

মোটকথা আমাদের জীবনের সর্বক্ষেত্রে আল্লাহকে ভয় করে চলে ঈমান বৃদ্ধির জন্য আল্লাহর নিকট দুয়া করতে হবে।আল্লাহ যেন আমাদের দুনিয়ার জীবনে ঈমানকে সবচেয়ে প্রিয় করে দেন ও ঈমান হ্রাস পায় এমন কাজ থেকে বিরত থাকার তাওফিক দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

%d bloggers like this: