সব তাবিজকে শিরক বলা বাড়াবাড়ি, জায়েয বলা ছাড়াছাড়ি

– মুফতী আবুল হাসান শামসাবাদী

সব তাবীজকে ‘শিরক’ বলা বাড়াবাড়ি।
সব তাবীজকে ‘জায়েয’ বলা ছাড়াছাড়ি।

 তাবীজ চার প্রকার :

১. যার মধ্যে আল্লাহ ছাড়া অন্যের নাম নিয়ে সাহায্য চাওয়া হয়েছে।
–এরূপ তাবীজ ‘শিরক’-এর অন্তর্ভুক্ত।

২. যার মধ্যে বিভিন্ন হরফ বা লেখা অথবা নকশা ব্যবহার করা হয়েছে দুর্বোধ্যভাবে। অর্থাৎ তার মধ্যে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া হয়েছে নাকি গাইরুল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।
–এরূপ তাবীজ ব্যবহার করা নাজায়েয ও হারাম।

৩. যার মধ্যে কোনপ্রকার লেখা না দিয়ে কোনধরনের জিনিস যেমন– হাড়, শিকড় প্রভৃতি দেয়া হয়েছে।
–এরূপ তাবীজ ব্যবহার করা বর্জনীয় ও মাকরূহে তাহরীমী।

৪. যার মধ্যে কুরআন ও হাদীসে বর্ণিত দু‘আ-কালাম ব্যবহার করা হয়েছে এবং আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করা হয়েছে।
–এরূপ তাবীজ জায়েয। তবে এরূপ তাবীজ ব্যবহারও উত্তম নয়; বরং তার পরিবর্তে কুরআন ও হাদীসে বর্ণিত দু‘আ মুখে পাঠ করা উত্তম। অথবা সেসব দু‘আ মুখে পাঠ করে কাউকে ঝাড়ফুক করাও জায়িয আছে।

অবশ্য যেসব ছোট শিশু মুখে দু‘আ উচ্চারণ করতে পারে না, সেই দু‘আ লিখে তাদের শরীরে তাবীজরূপে ব্যবহার করতে চাইলে তা করতে পারেন।
.
তামীমা বা মাদুলীর হুকুমও এরূপই।
.
অপরদিকে কুরআন-হাদীসের তাবীজ ব্যবহারের জায়েযের সূরতেও শর্ত হলো–তাবীজকে স্বয়ং কার্যকারী বিশ্বাস করা যাবে না। বরং তাকে তদবীর বা সবব হিসেবে গণ্য করে মহান আল্লাহই একমাত্র সমাধাকারী ও সবকিছুর নিয়ন্তা বলে অন্তরে ইয়াকীন রাখতে হবে।
সুতরাং কেউ যদি কুরআন ও হাদীসের বর্ণিত দু‘আর জায়িয তাবীজ বা যেকোন তাবীজকে স্বয়ং কার্যকারী বিশ্বাস করে ব্যবহার করে, তাহলে সেটা তার জন্য ব্যবহার করা নাজায়িয ও হারাম হবে এবং তা শিরকের পর্যায়ভুক্ত বলে গণ্য হবে।
.
(প্রমাণের জন্য দেখুন : সহীহ বুখারী, ২য় খণ্ড, ৮৫৫ পৃষ্ঠা/ সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৫৫৬৯/ সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৩৮৮৫/ জামি‘ তিরমিযী, হাদীস নং ৩৫২৮ / মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহ, হাদীস নং ২৪০১৩/ কিতাবুল আছার, ২য় খন্ড, ৭৫৮ পৃষ্ঠা/ আল-মাজমু লিল ইমাম আন-নাওয়াওয়ী, ৯ম খণ্ড, ৭৪ পৃষ্ঠা/ যাদুল মা’য়াদ, ৪র্থ খণ্ড, ৩৮৭ পৃষ্ঠা প্রভৃতি)

Leave a Reply

Your email address will not be published.

%d bloggers like this: