আল্লাহ তাআলার আরশ-কুরসি সম্পর্কে ১০ তথ্য

মাওলানা খুরশিদুল ইসলাম
———————————

আরশ মহান আল্লাহর বৃহত্তম সৃষ্টি। এর ওপর রাব্বুল আলামিন তাঁর মর্যাদা ও অবস্থান অনুযায়ী সমাসীন। ইরশাদ হয়েছে, ‘মহিমান্বিত আল্লাহ, যিনি প্রকৃত মালিক, তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তিনি সম্মানিত আরশের অধিপতি। (সুরা মুমিনুন-১১৬)

চলুন, আরশ-কুরসি সম্পর্কে ১০টি তথ্য জেনে নেয়া যাক- 

এক. আল্লাহর সৃষ্টির অন্যতম নিদর্শন হচ্ছে আরশ৷ আরশ অর্থ হচ্ছে রাজত্ব, রাজ সিংহাসন, ছাদ, মাচা শক্তি, গোত্র ইত্যাদি৷
(মুজামুল ওয়াহী,লিসানুল আরব)

দুই. কুরআন মাজীদে আরশ শব্দটি পঁচিশ বার এসেছে৷ এ পৃথিবী থেকে সাত আসমান পার হয়ে সিদরাতুল মুনতাহা থেকে সত্তর হাজার নুরের স্তর অতিক্রম করে আল্লাহর আরশ৷

তিন. এ আরশ এতই মর্যাদাবান যে আল্লাহ ইরশাদ করেন, তিনি মহান আরশের রব৷ (সুরা তওবা,১২৯)

চার. প্রিয়নবী সা. বলেন, আরশ বহনকারী একজন ফেরেশতার সাথে আমাকে আলাপ করার অনুমতি দেয়া হয়েছে৷ সে ফেরেশতার কানের লতি থেকে ঘাড় পর্যন্ত যে দূরত্ব তা কোনো দ্রুতগামী ঘোড়া অতিক্রম করতে সাতশত বছর সময় লাগবে৷ (কাশফুল আসর,৩/৩৬২)

পাঁচ. আরশ বহনকারী একজন ফেরেশতা যদি এত বড় হন, তাহলে আরশ কত বড়৷ ইমাম জাফর সাদেক রহ. বলেন, আরশ প্রতিদিন সত্তর হাজার নুরের রং ধারণ করে৷

ছয়. কুরসি আল্লাহর সৃষ্টির এক অনন্য নিদর্শন৷ কুরসি অর্থ চেয়ার, আসন, সিংহাসন কুরসি আল্লাহর আরশে আযিমের উপর অবস্থিত৷

সাত. আল্লাহর কুরসি যে কতবড় তা তিনি নিজেই বর্ণনা দিয়েছেন- তাঁর কুরসি আকাশ ও পৃথিবীময় পরিব্যাপ্ত; এদের রক্ষণাবেক্ষণ তাঁকে ক্লান্ত করে না৷ (সুরা বাকারা,২৫৫)

আট. কুরসি শব্দটি কুরানে ২ বার এসেছে৷ উক্ত আয়াতে বোঝা যায় যে, সাত আসমান সাত যমিন কুরসিতে জায়গা হয়৷ হযরত হাসান বসরী রহ বলেন, আরশ থেকে কুরসি অনেক উপরে৷ আরশের উপরে আলো, অন্ধকার, পানি ও বরফের চারটি পর্দা রয়েছে৷ এক একটি পর্দার থেকে অপর পর্দা পাঁচশত বছরের পথ৷ কুরসির তুলনায় সাত আসমান সাত জমিন বিশাল মরুভূমিতে একটি সর্ষে দানার মত৷ আবার আরশের তুলনায় কুরসি একটি সর্ষে দানার মত৷ আরশ বহনকারী ফেরেশতা আট জন৷ আর কুরসি বহনকারী ফেরেশতা চার জন৷ (কাশফুল আসরার-৩/৬৯৪, ৮/৪৫৩)

নয়. আল্লাহর আরশ, কুরসি ও লাওহে কলম সবই তাঁর কুদরতের নিশানা৷ যে বিস্ময়কর কুদরতসমূহ আমাদের প্রিয়নবী সা. মিরাজ সফরে সশরীরে জাগ্রত অবস্থায় বাস্তবেই দেখেছেন৷

দশ. আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তাআলা সাত ব্যক্তিকে সেই দিনে তাঁর (আরশের) ছায়া দান করবেন, যেদিন তাঁর ছায়া ব্যতীত আর কোন ছায়া থাকবে না, (তারা হল,)

  • ন্যায় পরায়ণ বাদশাহ (রাষ্ট্রনেতা)।
  • সেই যুবক যার যৌবন আল্লাহ তাআলার ইবাদতে অতিবাহিত হয়।
  • সেই ব্যক্তি যার অন্তর মসজিদসমূহের সাথে লটকে থাকে (মসজিদের প্রতি তার মন সদা আকৃষ্ট থাকে।)
  • সেই দুই ব্যক্তি যারা আল্লাহর সন্তুষ্টিলাভের উদ্দেশ্যে বন্ধুত্ব ও ভালবাসা স্থাপন করে; যারা এই ভালবাসার উপর মিলিত হয় এবং এই ভালবাসার উপরেই চিরবিচ্ছিন্ন (তাদের মৃত্যু) হয়। 
  • সেই ব্যক্তি যাকে কোন কুল কামিনী সুন্দরী নারী (ব্যভিচারের উদ্দেশ্যে) আহবান করে, কিন্তু সে বলে, আমি আল্লাহকে ভয় করি।’
  • সেই ব্যক্তি যে দান করে গোপন করে; এমনকি তার ডান হাত যা প্রদান করে, তা তার বাম হাত পর্যন্তও জানতে পারে না। 
  • আর সেই ব্যক্তি যে নির্জনে আল্লাহকে স্মরণ করে; ফলে তার উভয় চোখে পানি বয়ে যায়।  (বুখারী ৬৬০, ১৪২৩, ৬৪৭৯, ৬৮০৬, মুসলিম ১০৩১, তিরমিযী ২৩৯১, নাসায়ী ৫৩৮০, আহমদ ৯৩৭৩, মুয়াত্তা মালিক ১৭৭৭)

মহান আল্লাহ তাআলার পথে জীবন চালিয়ে জান্নাতে জাওয়ার তাওফিক দান করুন (আমিন)৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: