মুসলিম গণিতবিদ আল মারাকুশি

নাবিলা আফরোজ জান্নাত

অর্ধেক বুঝাতে আমরা কখনো লিখি ০.৫, কখনো লিখি ১/২, কখনো অনুপাতে নিয়ে লিখি ১:১। এই যে দশমিককে অনুপাত আকারে প্রকাশ করা, এই ব্যাপারটা প্রথম কে উদ্ভব করেছিলেন জানেন?

এটা যে আবিষ্কার করার মতো একটা ব্যাপার, তা কি ভেবেছি কখনো?

আবার ভাবুন, আসর সালাতের ওয়াক্ত কখন শুরু হয়, সূর্যের ঢলে পড়া হিসেব করে সেই সময়টা নির্দিষ্ট করা। ঘরে বসে বসে লাঠির ছায়া মেপে প্রতিদিন এই কাজ করা আমাদের পক্ষে সম্ভব হতো কখনো? এই আসর নামাজের সময়টার হিসেব কে করেছিলেন জানেন?

উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সম্পদ ভাগাভাগির জন্য আল্লাহ কুরআনে আইন দিয়ে দিয়েছেন, সেগুলো ঠিকঠাক হিসেব করায় কার অবদান আছে জানেন? এই যে আপনি দাদার বাড়ি বেড়াতে যান, সে বাড়িটা দাদার বাবার হলে আর মুসলিম আইন মেনে ভাগ হয়ে থাকলে কিন্তু আপনি সেই আইনেই বসবাস করছেন!

আবার ধরেন, এককালে ক্ষেত খামারে নদীর পানি দিয়ে সেচ দেওয়া হতো, ঐ পানির উচ্চতার হিসেবগুলো কে করেছিলেন জানেন?

নাইন-টেনের ফিজিক্স বইয়ের প্রথম অধ্যায় আমরা অনেকেই বাদ দিতাম। আবার ঐ অধ্যায় থেকেই ব্যবহারিক কিন্তু করতে হতো। “যান্ত্রিক ত্রুটি” কথাটা মনে আছে? এই ত্রুটির হিসেব কে করেছিলেন জানেন?

তারপর ধরেন কিস্তির টাকার হিসাব, কাযা নামাজের সময়ের হিসাব, আবহাওয়াবিদ্যা আর জ্যোতির্বিদ্যাকে একসাথে করে নতুন শাস্ত্র তৈরী করা, এই কাজগুলো কে করেছিলেন জানেন?

উঁহু, কোনো সরকারব্যবস্থা বা রাজনৈতিক দলের কাজ নয় এসব। এই কাজগুলো একজন মানুষের, ইবন আল বান্না তার নাম।

আরেকটা বড় নাম আছে তাঁর, আবু আব্বাস আহমাদ ইবন মুহাম্মান ইবন উসমান আল আযাদী। মরক্কোতে তাঁর জন্ম নাকি স্পেনে, এই নিয়ে একটু মতভেদ আছে, তবে জন্মটা ১২৫৬ সালে।

তার পড়াশুনার বিষয় ছিলো অনেকগুলো, পাটিগণিত, বীজগণিত, জ্যামিতি, জ্যোতির্বিজ্ঞান, ভাষাবিজ্ঞান, ব্যাকরণ, যুক্তিবিদ্যা, অলঙ্কারশাস্ত্র।

এথনোম্যাথমেটিকস এর ভাবানুবাদ করলে কী দাঁড়ায়? সংস্কৃতি গণিত? কোনো লিখিত প্রকাশ ছাড়াই সংস্কৃতি নিয়ে কাজ করে গণিতের এই শাখা। ইবন আল বান্নার উদ্ভাবন। অদ্ভুত না?

কনটিনিউয়াস ফ্র্যাকশন নামে গণিতের একটা অধ্যায় আছে, এটার কৃতিত্বও ইবন আল বান্নার।

তার লেখা বই অনেকগুলো। গণিত নিয়ে খুব বিখ্যাত তার দু’টো বইয়ের নাম হচ্ছে তালখিস আ’মাল আল হিসাব এবং রা’ফ আল হিজাব।

চাঁদের একটা আগ্নেয়গিরির নামকরণ করা হয়েছে তার নামে, আল-মারাকুশি। মরক্কোর মারাকেশ শহরের সাথে তিনি জড়িয়ে আছেন ভীষণভাবে, সেই থেকে এই নাম।

২৯ ডিসেম্বর তার জন্মদিন। তার এতো অবদানের জন্য আমরা আমাদের দোয়ায় ইবন আল বান্নাকে স্মরণ রাখতেই পারি!

আমাদের মুসলিম স্কলারদের মাধ্যমে আল্লাহ আমাদের আলোকিত করুন। আমীন।

আপনার মন্তব্য