খাদ্যপণ্যে ভেজালের ছড়াছড়ি: প্রতিকার নিয়ে যা ভাবছেন আলেম সমাজ

ভেজাল-খাদ্য

ওলিউর রহমান 

সুস্থতা আল্লাহ তাআলার এক বড় নেয়ামত। হাদিসে সুস্থতার নেয়ামতের বিশেষ কদর করতে বলা হয়েছে। আল্লাহর রহমতের পাশাপাশি সুস্থ থাকার অন্যতম শর্ত হচ্ছে পরিমিত বিশুদ্ধ খাদ্যগ্রহণ। কিন্তু রাজধানী থেকে শুরু করে জেলা শহর বা গ্রামের বাজার- সব জায়গায়ই ভেজালমুক্ত খাবার পাওয়া এক দুঃসাধ্য ব্যাপার। অথচ খাদ্যে ভেজাল মিশিয়ে বা অন্য কোনো উপায়ে যারা মানুষকে ধোঁকা দেয় তাদের ব্যাপারে রাসূলের কঠিন সাবধান-বাণী রয়েছে। রাসূল সা. বলেন من غشنا فليس منا ‘যে ধোঁকা দেয় সে আমাদের দলভুক্ত নয়’।

খাদ্যপণ্যে ভেজালের মিশ্রণ বর্তমান সময়ের আলোচিত প্রধানতম সমস্যা। সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী বিএসটিআইয়ের অনুসন্ধান মোতাবেক ৪০০ টি পণ্যের ৫২ টির মধ্যেই ভেজালের সংমিশ্রণ পাওয়া গেছে। ৯০ টির বেশি প্যাকেটজাত দুধের মধ্যে ‘ভেজাল’ দ্রবণের প্রমাণ মিলেছে। ভোগ্য পণ্য উৎপাদক অনেক প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানের পণ্যও রয়েছে এসব ভেজাল পণ্যের মধ্যে।

খাদ্যপণ্যে ভেজাল মেশানো মানবিক ও ইসলামের দৃষ্টিতে কেমন অপরাধ- এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাদরাসা বাইতুল উলূম ঢালকানগরের মুহাদ্দিস মুফতি শাব্বীর আহমদ বলেন, ‘শরিয়তের দৃষ্টিতে খাদ্যে ভেজাল মেশানো খুবই গর্হিত ও অন্যায় কাজ। রাসূল সা. এ ব্যাপারে কঠিন সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন। তাছাড়া এখানে বান্দার হক নষ্টের গোনাহও রয়েছে।

আর মানবিক দিক বিবেচনায় এটা চূড়ান্ত পর্যায়ের ঘৃণিত কাজ। মানুষের ক্ষতি করার সবচেয়ে জঘন্যতম পদ্ধতির একটি হল খাদ্যপণ্যে ভেজাল মেশানো। বর্তমান সময়ে মানুষের বড় বড় রোগ-ব্যাধি দেখা দেওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে ডাক্তাররা ভেজাল খাদ্যগ্রহণকে চিহ্নিত করেছেন’।

খাদ্যপণ্যে ভেজাল মেশানো রোধে কী করণীয় জানতে চাইলে মারকাযুদ্দাওয়ায় আল ইসলামিয়ার উস্তায মাওলানা মুহাম্মাদ যাকারিয়া আবদুল্লাহ বলেন, জনসচেতনতা তৈরির জন্য উলামায়ে কেরামের এ ব্যাপারে মসজিদে, মাহফিলে আলোচনা করা উচিত। ইসলামি মিডিয়াগুলোর খাদ্যে ভেজাল মেশানোর ব্যাপারে শরিয়তের অবস্থান ব্যাপকভাবে প্রচার করা কর্তব্য। অনেক সময় মানুষ শরিয়তের অবস্থান জানা না থাকার কারণে এই অপকর্মে লিপ্ত হয়। তাই মিডিয়ারও উচিত উলামায়ে কেরামের আলোচনাকে জনসম্মুখে প্রকাশ করা ।

তিনি আরও বলেন, পাশাপাশি প্রশাসন ও ক্ষমতাসীন দলের ঈমানি কর্তব্য ও দ্বীনি দায়িত্ব হল কঠোর উপায়ে বাজারের ভালোমন্দ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা। এটা রাসূল সা.-এর সুন্নাত। রাসূল বাজারে গিয়ে গিয়ে তদারকি করতেন। এ ব্যাপারে একটি প্রসিদ্ধ ঘটনাও আছে। উলামায়ে কেরামের জনসচেতনতার আলোচনা এবং সরকারের এ ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করলে আশা করা যায় খাদ্যপণ্যে ভেজাল মেশানো রোধ করা সম্ভব।

ইসলাম টাইমস

আপনার মন্তব্য