যেভাবে শয়তানকে পরাস্ত করে নামাযী হতে পারবেন

মোরশেদা খানম
________________

আমরা কেউ কেউ নামাযের প্রতি খুবই উদাসীন।
নামাযের সময় হলেই অলসতা কাজ করে আমাদের। আজ পড়বো কাল পড়বো করে আর পড়াই হয় না।

আপনি কি জানেন? শয়তান কিন্তু নামায পড়তে নিষেধ করে না, শুধু এই ‘আজ পড়বো কাল পড়বো’ করতে করতে মৃত্যু পর্যন্ত নিয়ে যায়। তখন কবরের আজাবে অতিষ্ঠ হয়ে মানুষ চিৎকার করে বলতে থাকে, হে প্রভু! আমাকে একটা বার সুযোগ দাও! দুনিয়াতে গিয়ে আমি নামায পড়বো।
কিন্তু সে সুযোগটা আর তাকে দেয়া হয় না।

অতএব যখনই শয়তানের এই ধোঁকায় পড়বেন, সাথে সাথে পড়ুন “আ’ঊজু বিল্লাহি মিনাশ শাইত্বনির রজীম “।

আজানের সাথে সাথেই ওজু করে আসুন। যত দেরি করবেন ততই শয়তান এসে আপনাকে নামায থেকে ভুলিয়ে দেবে। ‘একটু পর পড়ব’ এর ওয়াসওয়াসা ঢুকিয়ে দেবে।

হাদীসটি মন দিয়ে পড়ুন,

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো ইরশাদ করেন:
ﺍﻟﻌﻬﺪ ﺍﻟﺬﻯ ﺑﻴﻨﻨﺎ ﻭﺑﻴﻨﻬﻢ ﺍﻟﺼﻼﺓ ﻓﻤﻨﺘﺮﻛﻬﺎ ﻓﻘﺪ ﻧﻔﺮ
“আমাদের ও তাদের (কাফের/মুশরিকদের) মাঝে প্রধান পার্থক্যকারী হচ্ছে নামায। অতএব, যে ব্যক্তি নামায ত্যাগ করল, সে কুফরী করল।”

(হাদীসটি ইমাম আহমাদ, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসায়ীও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন।)

নিজেকে মুসলিম দাবি করছেন? তাহলে আজ এখনই নামাযকে নিজের বন্ধু করে নিন। ।কোন অবস্থাতেই নামায ছাড়বেন না।

জানেন কি? আল্লাহ রাগ করলে কারো রিজিক কেড়ে নেন না, শুধু সেজদা করার অধিকার ছিনিয়ে নেন।

আল্লাহ রাগ করছেন জেনেও বসে থাকবেন?

নামায না পড়তে পারলে এটা ভাববার কারণ নেই যে ব্যস্ততার কারণে পড়তে পারলাম না।
বরং এটা ভাবা উচিত, কোন গুনাহের কারণে আল্লাহ হয়ত আমাকে তার সিজদার জন্য কবুল করেন নি।

কেয়ামতের ময়দানে প্রথম হিসেব নেয়া হবে নামাযের, হিসেব দেবেটা কে?!

আচ্ছা এই যে নামায না পড়ে শুয়ে পড়লেন, দুনিয়ার কাজে ব্যস্ত হয়ে রইলেন, আজকেই যদি আপনার জীবনের শেষ দিন হয়? এই মুহূর্তটাই যদি আপনার জীবনের শেষ মুহূর্ত হয়?! আপনার আশেপাশেই তো কত লোক হুট করে মরে যাচ্ছে। চোখে কি পড়ে না? কাফের হয়ে মরে যাওয়ার কি এতই ইচ্ছে?!

আপনার কাছের কারো মৃত্যুর স্মৃতি স্মরণ করুন, তার মতোই একদিন আপনাকে লাশ হয়ে কবরে প্রবেশ করতে হতে হবে। কতটা প্রস্তুত আপনি?

ইসলাম নামাযের ব্যাপারে কতটা কঠোর জানেন তো?

কেউ দাঁড়িয়ে নামায পড়তে না পারলে বসে পড়বে, বসে না পারলে শুয়ে পড়বে। যতক্ষণ হুঁশ আছে ইশারায় পড়বে। মানে কোন অবস্থাতেই নামায ছাড়া যাবে না। আর আপনি এমনি এমনি কোন কারণ ছাড়াই ছেড়ে দেয়ার কথা ভাবছেন!?

প্লিজ লিখাটা মন দিয়ে পড়ুন। বারবার। ফিরে আসুন জান্নাতের পথে, জান্নাতের পাখি হতে।
আল্লাহ আপনাকে উত্তম তরিকায় সেজদা দেয়ার তৌফিক দান করুন। আমীন, ইয়া রাব্বাল আলামীন।

——————————————————
মাসিক আদর্শ নারী পরিচালিত মেয়েদের জন্যে ব্যতিক্রমধর্মী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মাদরাসা খাতুনে জান্নাত এর ফেসবুক পেইজ
www.facebook.com/MadrasaKhatuneJannat

ফেসবুক পেজ

https://www.facebook.com/Adarsha.Nari

সাইটের ফেসবুক পেইজ
www.facebook.com/adarshanari.web

অফিসিয়াল ফেসবুক গ্রুপ
www.facebook.com/groups/adarsha.nari

Leave a Reply

Your email address will not be published.

%d bloggers like this: