খোলা তালাক সম্পর্কে বিস্তারিত প্রশ্নোত্তর (দলীল সহকারে)

খোলা তালাক কাকে বলে?!

খোলা অর্থ টাকার বিনিময়ে স্বামী এবং স্ত্রী মধ্যে সমঝোতা হওয়া।  স্বামী স্ত্রীর মাঝে বনিবনা না হলে, যদি সংসারে কোনভাবে শান্তি না আসে, অশান্তি লেগেই থাকে, তাহলে স্ত্রীর সুবিধা অনুপাতে স্বামী থেকে মুক্তি পাবার জন্য খোলা করার অধিকার স্ত্রীকে প্রদান করা হয়েছে।  অর্থাৎ নিজেরা একটা চুক্তি করে চুক্তির সম্পদ পরিশোধ করে সেপারেট হয়ে যাবে।  বনিবনা না হবার কারণ যদি স্বামীর জুলুম বা তার কোন দুর্বলতার কারণে হয়, তাহলে খোলা করার যৌক্তিকতা আছে। এতে শরয়ী কোন বিধিনিষেধ নেই।

কিন্তু যদি স্ত্রীর নিজেরই দোষে খোলা করতে চায়, তাহলে খোলা করলেতো হয়ে যাবে, কিন্তু এতে করে স্ত্রী গোনাহগার হবে।

আবারো বলছি, যে কোন কারণেই খোলা করলে খোলা হয়ে যাবে, স্ত্রী তালাকপ্রাপ্তাও হয়ে যাবে, কিন্তু যদি স্ত্রীর নিজের দোষেই খোলা করে থাকে,তাহলে স্ত্রী গোনাহগার থাকবে।

তারপরও যদি উক্ত মেয়ে স্বামীর সাথে খোলা করে তালাকপ্রাপ্তা হয়ে যেতে চায়, তাহলে করতে পারে। সে খোলার মাধ্যমে তালাকপ্রাপ্তাও হয়ে যাবে। তারপর ইদ্দত শেষে অন্য পুরুষের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধও হতে পারে। বাকি তার এ অন্যায় আচরণের কারণে সে গোনাহগার হবে।

وَلَا يَحِلُّ لَكُمْ أَن تَأْخُذُوا مِمَّا آتَيْتُمُوهُنَّ شَيْئًا إِلَّا أَن يَخَافَا أَلَّا يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ ۖ فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا فِيمَا افْتَدَتْ بِهِ ۗ تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ فَلَا تَعْتَدُوهَا ۚ وَمَن يَتَعَدَّ حُدُودَ اللَّهِ فَأُولَٰئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ [٢:٢٢٩]

আর নিজের দেয়া সম্পদ থেকে কিছু ফিরিয়ে নেয়া তোমাদের জন্য জায়েয নয় তাদের কাছ থেকে। কিন্তু যে ক্ষেত্রে স্বামী ও স্ত্রী উভয়েই এ ব্যাপারে ভয় করে যে,তারা আল্লাহর নির্দেশ বজায় রাখতে পারবে না,অতঃপর যদি তোমাদের ভয় হয় যে,তারা উভয়েই আল্লাহর নির্দেশ বজায় রাখতে পারবে না,তাহলে সেক্ষেত্রে স্ত্রী যদি বিনিময় দিয়ে অব্যাহতি নিয়ে নেয়,তবে উভয়ের মধ্যে কারোরই কোন পাপ নেই। এই হলো আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত সীমা। কাজেই একে অতিক্রম করো না। বস্তুতঃ যারা আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করবে,তারাই জালেম। [সূরা বাকারা-২২৯]

l


স্বামীর সাথে বনিবনা না হওয়ায় খোলা তালাক গ্রহণ এবং এরপর পূর্বের প্রেমিকের কাছে যাওয়া যাবে কি না? 

বিয়ে পূর্ব প্রেম একটি নাজায়েজ ও হারাম কাজ। এর মাধ্যমে উক্ত মেয়ে মারাত্মক গোনাহের কাজ করেছে। বিয়ে হবার পরও সেই পুরানো প্রেমকে মনের মাঝে জিইয়ে আরো জঘন্য পাপকর্ম।

সেই মহিলার উচিত অতি দ্রুত আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া। উক্ত গোনাহের কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখা। শরয়ী কোন কারণ ছাড়া অহেতুক বিবাহ বিচ্ছেদ একটি গর্হিত ও অনৈতিক কাজ। ইসলাম যা কিছুতেই সাপোর্ট করে না।

তাই এহেন কর্ম থেকে বিরত থাকতে হবে। সেই সাথে আল্লাহর ভয়, আখেরাতের ভয়, জাহান্নামের ভয়াবহ আজাবের কথা স্মরণ করে উক্ত মেয়েটির উচিত বর্তমান সংসারকেই সুন্দরভাবে পরিচালিত করা। সকল খারাপ খেয়াল মন থেকে দূর করে দেয়া।

তবে যদি সংসারে কোনভাবে শান্তি না আসে, অশান্তি লেগেই থাকে, তাহলে খোলা করতে পারে। তবে দোষী যেহেতু স্ত্রী। তাই এ কারণে খোলার মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদ করার দ্বারা স্ত্রী সে গোনাহগার হবে। তবে খোলা করার দ্বারা বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যাবে।

وَلَا يَحِلُّ لَكُمْ أَن تَأْخُذُوا مِمَّا آتَيْتُمُوهُنَّ شَيْئًا إِلَّا أَن يَخَافَا أَلَّا يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ ۖ فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا فِيمَا افْتَدَتْ بِهِ ۗ تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ فَلَا تَعْتَدُوهَا ۚ وَمَن يَتَعَدَّ حُدُودَ اللَّهِ فَأُولَٰئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ [٢:٢٢٩]

আর নিজের দেয়া সম্পদ থেকে কিছু ফিরিয়ে নেয়া তোমাদের জন্য জায়েয নয় তাদের কাছ থেকে।

কিন্তু যে ক্ষেত্রে স্বামী ও স্ত্রী উভয়েই এ ব্যাপারে ভয় করে যে,তারা আল্লাহর নির্দেশ বজায় রাখতে পারবে না, অতঃপর যদি তোমাদের ভয় হয় যে,তারা উভয়েই আল্লাহর নির্দেশ বজায় রাখতে পারবে না, তাহলে সেক্ষেত্রে স্ত্রী যদি বিনিময় দিয়ে অব্যাহতি নিয়ে নেয়,তবে উভয়ের মধ্যে কারোরই কোন পাপ নেই। এই হলো আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত সীমা। কাজেই একে অতিক্রম করো না। বস্তুতঃ যারা আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করবে,তারাই জালেম। [সূরা বাকারা-২২৯]


খোলা তালাকের মাধ্যমে কয় তালাক পড়ে? 

যদি তিন তালাকের কথা উল্লেখ না থাকে, তাহলে খোলা তালাকের মাধ্যমে এক তালাকে বাইন হয়ে থাকে। আর এ অবস্থায় যদি স্বামী তার স্ত্রীকে ফেরত নিতে চায়, তাহলে নতুন করে বিয়ে করে নিতে হবে। নতুন মোহর ধার্য করে, দুজন প্রাপ্ত বয়স্ক মুসলিম সাক্ষ্যের সামনে বিয়ের প্রস্তাব ও কবুল করার মাধ্যমে নতুন করে বিয়ে করে নিলে স্বামী স্ত্রী আবার একসাথে থাকতে পারবে।

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ , أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «جَعَلَ الْخُلْعَ تَطْلِيقَةً بَائِنَةً»

হযরত ইবনে আব্বাস রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ খোলাকে এক তালাকে বাইন সাব্যস্ত করেছেন। {সুনানে দারা কুতনী, হাদীস নং-৪০২৫, মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-১৮৪৪৮, মুজামে আবী ইয়ালা, হাদীস নং-২৩০, আসসুনানুল কুবরা লিলবায়হাকী, হাদীস নং-১৪৮৬৫}

فى الفتاوى الهندية–إذا كان الطلاق بائنا دون الثلاث فله أن يتزوجها في العدة وبعد انقضائها وإن كان الطلاق ثلاثا في الحرة وثنتين في الأمة لم تحل له حتى تنكح زوجا غيره نكاحا صحيحا (الفتاوى الهندية-1/472-473


স্বামীকে খোলা তালাকে বাধ্য করলে তালাক হবে কি না?! 

স্বামীকে জোরপূর্বক খোলা তালাকের কাগজে সাইন করানো হয়ে থাকে, স্বামী মুখে কোন তালাক শব্দ উচ্চারণ না করে থাকে, আর তালাক প্রদানেরও তার কোন ইচ্ছে না থেকে থাকে, তাহলে শুধু সাইন করার দ্বারা তালাক হবে না।

সুতরাং এমতাবস্থায় স্ত্রীলোক ও স্বামীর বিবাহ বন্ধন বিচ্ছেদ হয়নি।  এখনো স্বামী স্ত্রী হিসেবে বাকি রয়েছে।

رجل اكره بالضرب والحبس ان يكتب طلاق امرأته فلانة بنت فلان طالق لا تطلق امرأته لان الكتابة اقيمت مقام العبارة باعتبار الحاجة ولا حاجة ههنا (فتاوى قاضيخان على هامش الهندية، كتاب الطلاق، فصل فى الطلاق بالكتابة-1/472، الفتاوى الهندية-1/379، التاتارخانية-3/380


খোলা তালাকপ্রাপ্তা মহিলার ইদ্দত পালন করা জরুরী কি না?

খোলা তালাকপ্রাপ্তা মহিলার উপর তিন হায়েজ পরিমাণ ইদ্দত পালন করা জরুরী। তিন হায়েজ শেষ হওয়ার আগে উক্ত মহিলার জন্য অন্য কারো সাথে বিবাহ করা জায়েজ নয়। ইদ্দত শেষ হওয়ার পর বিবাহ করতে কোন সমস্যা নেই।

তবে প্রথম স্বামীর সাথে ইদ্দত শেষ হওয়ার আগে বা পরে নতুন করে বিবাহ করা জায়েজ আছে যদি তিন তালাকের উপর খোলা না করে থাকে। যদি তিন তালাকের উপর খোলা করে থাকে, তাহলে প্রথম স্বামীর জন্য ইদ্দত শেষ হয়ে গেলেও বিবাহ করা জায়েজ হবে না।

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ , أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «جَعَلَ الْخُلْعَ تَطْلِيقَةً بَائِنَةً»

হযরত ইবনে আব্বাস রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ খোলাকে এক তালাকে বাইন সাব্যস্ত করেছেন। {সুনানে দারা কুতনী, হাদীস নং-৪০২৫, মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-১৮৪৪৮, মুজামে আবী ইয়ালা, হাদীস নং-২৩০, আসসুনানুল কুবরা লিলবায়হাকী, হাদীস নং-১৪৮৬৫}

وَالْمُطَلَّقَاتُ يَتَرَبَّصْنَ بِأَنفُسِهِنَّ ثَلَاثَةَ قُرُوءٍ ۚ [٢:٢٢٨

আর তালাকপ্রাপ্তা নারী নিজেকে অপেক্ষায় রাখবে তিন হায়েজ পর্যন্ত। {সূরা বাকারা-২২৮}

فى الفتاوى الهندية-إذا كان الطلاق بائنا دون الثلاث فله أن يتزوجها في العدة وبعد انقضائها وإن كان الطلاق ثلاثا في الحرة وثنتين في الأمة لم تحل له حتى تنكح زوجا غيره نكاحا صحيحا (الفتاوى الهندية-1/472-473

তথ্যসূত্র

বজলুল মাযহুদ-৩/২৮৮

আওযাজুল মাসালিক-১০/১০৯


 

4 thoughts on “খোলা তালাক সম্পর্কে বিস্তারিত প্রশ্নোত্তর (দলীল সহকারে)

  1. স্ত্রী যদি বিনা কারণে স্বামীকে তালাক দিয়ে মোহরানার টাকা দাবি করে তবে তাকে কি মোহরানা দিতেই হবে

    1. স্ত্রী স্বামীকে তালাক দিতে পারে না। স্বামী স্ত্রীকে নিজের উপর তালাক গ্রহণ করার অধিকার দিতে পারে। অধিকার না দিলে তালাক হবে না

    1. যার সাথে প্রেম করছেন, বরং প্রেম না করে একদম বিয়েই করে ফেলা উচিৎ। এটা জায়েজ তো অবশ্যই বরং উত্তম। বিবাহ বহির্ভূত প্রেম ভালোবাসা শরীয়তে না জায়েজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *