হিজড়াদের প্রতি আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য

মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম

আমাদের দেশে হিজড়াদের দ্বারা হর হামেশাই হেনস্থা হওয়ার ঘটনা ঘটে। কারও বাড়িতে নতুন শিশুর জন্ম হয়েছে তো সেখানে একদল হিজড়া উপস্থিত। কোথাও বিবাহের অনুষ্ঠান- সেখানেও এদের দুর্দম উপস্থিতি। ইচ্ছামত চাঁদা দাবি করবে এবং শিশুর অভিভাবক বা অনুষ্ঠানের আয়োজক তা দিতে বাধ্য থাকবে। মানুষ তাদের কাছে নিতান্তই অসহায়, তাদের কথামত কাজ না করলে নীতি-নৈতিকতাহীন হেন কাজ নেই, যা করতে তারা একটুও দ্বিধাবোধ করবে। তাদের হাতে নাজেহাল হওয়া দু’একজন লোকের কথা শুনে রীতিমত চমকে উঠেছি। সত্যি কথা হচ্ছে সামাজিক শান্তি ও স্বস্তির পক্ষে এরা এক মহা ফ্যাসাদে পরিণত হয়ে গেছে।

আমার এ লেখার উদ্দেশ্য তাদের কুকীর্তির ফিরিস্তি দেওয়া বা তাদের বিরুদ্ধে নালিশ জানানো নয়। আমার অভিযোগ নিজেদেরই সম্পর্কে।

আমি জানি না আমাদের দেশে কিংবা সারা বিশ্বে হিজড়াদের সংখ্যা কত। সরকারের খাতায় বা আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান ব্যুরোতে এর কোনও হিসাব আছে কি না তাও আমার জানা নেই। কিন্তু বিশ্বের অগুনতি মানুষের মধ্যে এদের সংখ্যা যে অতি সামান্যই হবে তা বুঝতে গবেষণার দরকার পড়ে না। হয়ত কয়েক লক্ষ হবে। বাংলাদেশে কিছুতেই লাখের ঘরে পৌঁছাবে না। মাত্র কয়েক হাজার হবে। এই মুষ্টিমেয় লোক কীভাবে এমন একটা পর্যায়ে পৌঁছাতে পারল, যদ্দরুণ দেশের নারী বা পুরুষ সমাজকে বিভিন্ন স্টেশনে, যানবাহনে, আনন্দানুষ্ঠানে বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বসেই অসহায়ের মত হেনস্থা হতে হয়? এটা কি তাদের প্রতি বৃহত্তর জনসমাজের আপন দায়িত্ব পালনের অবহেলাকেই নিশানদিহী করছে না?

সন্দেহ নেই হিজড়াদের প্রতি সেই অবহেলারই খেসারত আমাদেরকে দিতে হচ্ছে প্রকাশ্য লোকমুখে তাদের দৌরাত্ম্যপনার শিকার হয়ে। ব্যাপারটা এখানেই শেষ হলেও না হয় কথা ছিল। কর্তব্যপালনের এ ত্রুটির রয়েছে আরও দূরপ্রসারিত পারম্পর্য। এরই ফলে তারা সমাজবিচ্ছিন্ন একটি শ্রেণীতে পরিণত হয়েছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় কেবল নারী ও পুরুষই মানবসমাজের অঙ্গ, হিজড়াগণ এ সমাজের কোনও অংশ নয়; বরং তারা ভিন্ন কোনও প্রজাতি। তাই মানবিকতার চর্চা, মানবিক গুণাবলীর বিকাশ ও মানব-প্রতিভার স্ফুরণ, বলতে গেলে তাদের পক্ষে সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক। সুতরাং দেখতে-শুনতে মানুষ হলেও কার্যত তারা সেই মর্যাদার বাইরে। সত্য কথা হল মনুষ্য অধিকার থেকে তারা বঞ্চিত। এমনকি তারা যে মনুষ্য-মর্যাদা ও মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ত বা সেই বোধও তারা লালন করে না। তারা নিজেদের জন্য বেছে নিয়েছে এমন এক জীবন যার সাথে দেহজ চাহিদার বাইরে চিত্তবৃত্তি ও মননশীলতার বিশেষ সম্পর্ক নেই। গড়ে নিয়েছে এমন এক জগত, গ্রাসাচ্ছদনই যার শেষ কথা। ব্যস এর জন্য বৃহত্তর সমাজ থেকে আলাদা হয়ে তারা নিজেদের জন্য তৈরি করেছে স্বতন্ত্র নিবাস, স্বতন্ত্র বেশভূষা ও স্বতন্ত্র পেশা। এভাবে যেন এক দুর্লঙ্ঘ প্রাচীর দ্বারা তারা নিজেদের ঘিরে নিয়েছে, যাতে এক অর্থ ছাড়া শিক্ষা-দীক্ষা, চিন্তা-চেতনা, সভ্যতা-সংস্কৃতি তথা সমষ্টির সাথে মিশে যাওয়ার আরও যত উপাদান-উপকরণ আছে, তার কিছুই তাদেরকে স্পর্শ করতে না পারে।

এই অবহেলিত জীবন যাপনের সর্বাপেক্ষা বেশি প্রভাব পড়েছে তাদের দ্বীনী জিন্দেগীর উপর। মুসলিম বাবা-মায়ের সন্তান হয়েও ইসলামী অনুশাসনের সাথে তাদের কোনও সম্পর্ক নেই। যেন হিজড়া হওয়ার কারণে ইসলামী শরীয়তের বাধ্যবাধকতা থেকে তারা মুক্ত। শরীয়তের বিধানাবলী কেবল পুরুষ ও নারীর জন্যই প্রদত্ত, তাদের জন্য নয়। তাদের জন্য কোনও ধর্মজীবন নেই, আখিরাত নেই, হিসাব-নিকাশ নেই। ব্যস দুনিয়ায় যতদিন বাঁচার বাঁচবে তারপর মুহূর্তেই সব শেষ। এমনকি আমি এই প্রশ্নও শুনেছি যে, হিজড়ারা মুসলমান কি না? অর্থাৎ তারা নিজেরা যেমন দ্বীনের অনুসরণ করার কোনও উৎসাহবোধ করছে না, তেমনি অন্যদের কাছেও তাদের দ্বীনী প্রসঙ্গ সম্পূর্ণ উপেক্ষিত। অথচ অন্যদের মত তারাও দ্বীনের আওতাভুক্ত। শরীআত যেমন নারী-পুরুষের জন্য, তেমনি তাদেরও জন্য। অন্যদের মতই তাদের পরকালীন জবাবদিহিতা আছে। যেই জবাবদিহিতার জন্য ইসলাম অন্যদের মত তাদেরকেও নিজ হিদায়াতের আওতায় রেখেছে। তাই তো আমাদের ফুকাহায়ে কিরাম তাদের রচনাবলীতে ‘বাবুল-খুনছা’ (অধ্যায়: হিজড়া) শিরোনামে স্বতন্ত্রভাবে তাদের সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। তারা বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন যে, খুনছা বা হিজড়া তিন রকম হয়ে থাকে

(ক) কারও মধ্যে পুরুষ-লক্ষণ প্রবল;

(খ) কারও মধ্যে নারী-লক্ষণ প্রবল এবং

(গ) কারও মধ্যে উভয়-লক্ষণই সমান।

এদের মধ্যে প্রথম শ্রেণীকে পুরুষ ও দ্বিতীয় শ্রেণীকে নারী গণ্য করা হবে। তৃতীয় শ্রেণী প্রকৃত হিজড়া। দ্বীনের সাধারণ বিষয়গুলো এদের সকলের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হবে। নারী-পুরুষভেদে যেসব বিধানে পার্থক্য আছে, সেগুলো তারা উপরিউক্ত শ্রেণিভেদ অনুযায়ী পালন করবে। যারা প্রকৃত হিজড়া তাদের করণীয়ও ফিকহী গ্রন্থাবলীতে ব্যাখ্যা করে দেওয়া হয়েছে। মোটকথা তারা শরীআতের গণ্ডিবহির্ভূত নয় কিছুতেই। কিন্তু সামাজিকভাবে অবহেলিত থাকার কারণে কার্যত তারা শরীআতের সাথে সম্পর্করহিত হয়েই থাকছে। মুকাল্লাফ অর্থাৎ শরীআতের আওতাধীন হওয়া সত্তে¡ও যে তারা শরীআত-বিগর্হিত জীবন-যাপন করছে নিঃসন্দেহে সামাজিক অবহেলাই এর জন্য প্রধানত দায়ী। সমাজের যারা হর্তাকর্তা বা সমাজনির্মাণের দায়িত্ব যাদের উপর অর্পিত সেই উলামা ও দ্বীনদার মহল কিছুতেই এ দায় এড়াতে পারেন না।

কোনও লোক যদি মানবিক মর্যাদার সাথে সমাজের আর দশজনের সাথে মিলেমিশে থাকে সবরকম সামাজিক সুযোগ-সুবিধা তার জন্য অবারিত থাকে এবং দৈহিক, চৈত্তিক, তাত্ত্বিক সর্বপ্রকার ভালোমন্দে তাদের সাথে তার ভাগাভাগি লেনদেন থাকে, কিন্তু তা সত্তেও সে কোনও কারণে বিপথগামী হয়ে যায়, তবে দায়িত্ববোধসম্পন্ন ব্যক্তিরা তার সে বিপথগামিতার দায় সম্পূর্ণ তার একার উপর ছেড়ে দিয়ে নিশ্চিন্ত বসে থাকতে পারে না এবং তা থাকেও না। মাদকবিরোধী আন্দোলনসমূহই এর প্রমাণ। হিজড়াদের তো এরকম কোনও সুবিধাই নেই। তারা সর্বতোভাবে অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত। এ অবস্থায় বিপথগামিতাই তাদের অনিবার্য পরিণতি হওয়ার কথা এবং সঙ্গত কারণেই তার সবটা দায় সমাজের দায়িত্বশীলদের উপর বর্তায়। এর থেকে উত্তরণের জন্য দরকার উলামায়ে কিরাম ও বিত্তবানদের সমন্বিত উদ্যোগ।

প্রথম কাজ মানসিকতার পরিবর্তন। ভাবতে হবে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে। তারাও সমাজের অন্যসব লোকের মতই মানুষ। আল্লাহ তাআলা যেমন পুরুষ ও নারী সৃষ্টি করেছেন, হিজড়াগণও তেমনি তাঁরই সৃষ্টি। কোনও পুরুষ বা নারী নিজ ইচ্ছাক্রমে নারী-পুরুষ হয়নি। তেমনি হিজড়া হওয়ার পেছনেও তাদের নিজ ইচ্ছার কোনও ভূমিকা নেই। এটা স্রেফ আল্লাহ তাআলার কুদরতের প্রকাশ। তিনি কেবলই নিজ ইচ্ছায় যাকে চেয়েছেন পুরুষ বানিয়েছেন, যাকে চেয়েছেন নারী বানিয়েছেন এবং যাকে ইচ্ছা উভলিঙ্গ। তিনি যাকে যা বানিয়েছেন তার কর্তব্য তাতে খুশি থাকা। অন্যের মাঝে কোনও শ্রেষ্ঠত্ব দেখে তাতে ঈর্ষাকাতর ও হীনম্মন্যতাবোধের শিকার না হওয়া এবং কারও মধ্যে কোনও কমতি দেখলে সেজন্য তাকে হীন মনে না করা বরং তার প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া। এটাই কুরআন-হাদীসের শিক্ষা এবং মানবতাবোধের দাবি। সেই শিক্ষা ও দাবি অনুযায়ী নিজেদেরই একজন গণ্য করা এবং সকলের মধ্যে সম্মানজনক জায়গা করে দেওয়া।

এই মেহনতে সর্বপ্রথম শামিল করতে হবে পিতামাতাকে। উভয়লিঙ্গের সন্তান জন্ম নিলে সমাজবাস্তবতার কারণে পিতামাতা প্রচণ্ড লজ্জাবোধ করে। তাই পিতামাতাকে বোঝাতে হবে এতে লজ্জার কিছু নেই। বরং লজ্জাবোধ করা একরকম জাহিলিয়াত। প্রাক-ইসলামী যুগের লোকে তো কন্যাসন্তানের জন্ম হলেও লজ্জাবোধ করত। ইসলামী শিক্ষার আলো যাদের অন্তরে পৌঁছায়নি তাদের কাছে আজও পর্যন্ত এটা লজ্জার বিষয়। কিন্তু সেই লজ্জা তো কিছু প্রশংসনীয় বিষয় নয় এবং তাকে প্রশ্রয়ও দেওয়া উচিত নয়। তেমনি উভলিঙ্গ সন্তান জন্ম নেওয়াটাও কিছু লজ্জার বিষয় নয়। বরং এ সন্তান তাদের প্রেম-ভালোবাসার ফসল। এটা তাদের জন্য আল্লাহ তাআলার দান। তাঁর নির্বাচন ও পরীক্ষা। তাঁর এ দানকে সন্তুষ্টির সঙ্গে গ্রহণ করতে হবে এবং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। বস্তুত পরীক্ষা নিখুঁত পুত্র বা কন্যা সন্তানও। আল্লাহ তাআলা দেখতে চান পিতামাতা তাঁর দানকে কীভাবে গ্রহণ করছে, কীভাবে তার পরিচর্যা করছে এবং কীভাবে তাকে গড়ে তুলছে। আল্লাহ প্রদত্ত সন্তানকে আল্লাহর বান্দারূপে গড়ে তোলার মধ্যেই পরীক্ষার কৃতকার্যতা নিহিত। সন্তানকে যদি আল্লাহ তাআলার বান্দারূপে গড়ে তোলার সাধনা করা না হয়, তবে তা হবে পরীক্ষায় অকৃতকার্যতা। এ কথা যেমন পুত্র সন্তানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, তেমনি কন্যা সন্তানের ক্ষেত্রে এবং উভলিঙ্গ সন্তানের ক্ষেত্রেও। কাজেই কোন লিঙ্গের সন্তান সেটাই বড় কথা নয়। তার পরিচর্যা কেমন করা হচ্ছে এবং কীভাবে তাকে গড়ে তোলা হচ্ছে সেটাই আসল কথা। কোনও পিতামাতা যদি এই দৃষ্টিকোণ থেকে তার হিজড়া সন্তানকে গ্রহণ করে এবং এভাবে তার পেছনে মেহনত করে, তবে তারা আখিরাতের পুরস্কার তো পাবেনই, দুনিয়াতেও তার দ্বারা তাদের মুখ উজ্জ্বল হতে পারে। তাদের পরিচর্যার ফলে সেই সন্তানটি এমনই কৃতিত্ববান হয়ে উঠতে পারে যে কাল তাকে নিয়ে সকলে গর্ব করবে এবং তার যোগ্যতা ও প্রতিভা দ্বারা যুগ ও সমাজের অভাবনীয় কল্যাণ সাধিত হবে।

কোনও হিজড়া সন্তান যদি তার পিতামাতা ও সমাজের দ্বারা বৈষম্যের শিকার না হয়, বরং উপযুক্ত মানুষরূপে গড়ে ওঠার পেছনে তাদের সঠিক আনুকূল্য লাভ করে, তবে উন্নত মন-মানসিকতা আপনিই তার মধ্যে গড়ে উঠবে। তার ভেতর হীনম্মন্যতা দানা বাঁধার অবকাশ হবে না। ফলে তার নিজের ও সকলের কাঙ্ক্ষিত মর্যাদায় পৌঁছানো তার পক্ষে দুরূহ থাকবে না।

ইতোমধ্যে যে হিজড়াগণ বড় হয়ে গেছে, সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করলে তাদেরকে সমাজের মূল ¯ধারাতে নিয়ে আসা অসম্ভব নয়। কিছুটা কঠিন হবে বটে, কিন্তু পণ্ডশ্রম হবে না কিছুতেই। তারাও যে সম্মানিত মানুষ- এই বোধ যদি জাগ্রত করে দেওয়া যায়, তবে তার পুনর্বাসনের প্রচেষ্টায় তার পক্ষ থেকেও সহযোগিতা পাওয়া যাবে এবং তার সামাজিক প্রতিষ্ঠার যে-কোনও মেহনতকে সে সাদরে গ্রহণ করবে।

পুনর্বাসনের জন্য তার কর্মসংস্থান করে দেওয়াই যথেষ্ট নয়। পূর্ণাঙ্গ পুনর্বাসন তখনই, যখন তাকে তার পরিবার ও সমাজের সাথে যুক্ত করে জীবন যাপনের স্বাভাবিক ধারায় নিয়ে আসা যাবে। এর জন্য চাই সুচিন্তিত ও দীর্ঘস্থায়ী পরিকল্পনা।

এর সাথে দরকার দাওয়াতি মেহনত। তাকে বোঝানোর চেষ্টা করতে হবে যে, সে একজন মর্যাদাবান মানুষ ও মুসলিম। সে হিসেবে তার অনেক দায়িত্ব-কর্তব্য আছে। একজন দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে সে শরীয়তের আওতাধীন। শরীআত তাকে সমাজের গলগ্রহ নয়, বরং সামাজিক ভারবহনের মহিমা দান করেছে। সেই মহিমায় উদ্ভাসিত হওয়ার জন্য তাকে গণমানুষের স্রোতে মিশে যেতে হবে। তাদের মধ্যে থেকে তাকে আদায় করতে হবে আল্লাহর হক এবং তার পাশাপাশি বান্দার হক। এই উভয়বিধ হক আদায়ের মাধ্যমে তাকে অবতীর্ণ হতে হবে তাকওয়া অর্জনের প্রতিযোগিতায়। সত্যিকারের মুত্তাকী-পরহেযগার হতে পারলে আল্লাহ তাআলার কাছে মনুষ্যত্বের মর্যাদায় সে বহু নারী-পুরুষকে অতিক্রম করে যেতে পারবে। আল্লাহ প্রদত্ত মর্যাদাই প্রকৃত মর্যাদা। যার মাপকাঠি পুরুষ বা নারী হওয়া নয়; বরং শুধুই তাকওয়া। আল্লাহ তাআলা বলেন, (তরজমা) তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সেই বেশি মর্যাদাবান যে বেশি মুত্তাকী। -সূরা হুজুরাত ৪৯ : ১৩

এ ছাড়াও তাদের তালিমের ব্যবস্থা করাও জরুরি। কুরআন মাজীদ শেখানো, নামায-রোযা, হালাল-হারাম, জায়েয-নাজায়েয প্রভৃতি মাসায়েল সম্পর্কে জ্ঞাত করা। হক্কুল্লাহ ও হক্কুল ইবাদ সম্পর্কে পরিচিত করা। মোটকথা একজন মুসলিম হওয়ার জন্য যা কিছু করণীয় সে সম্পর্কে তাদেরকে অবহিত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা দায়িত্বশীল মহলকে অবশ্যই নিতে হবে। অন্যথায় জবাবদিহিতার প্রশ্ন থেকেই যায়- নিজ বিবেকের কাছে, সময় ও সমাজের কাছে, সর্বোপরি সকলের সৃষ্টিকর্তার কাছে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সেই সচেতনতা আমাদের সকলকে দান করুন। আমীন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

%d bloggers like this: