একদিন চলে যেতে হবে এ পৃথিবী ছেড়ে

মোঃ রুহুল আমিন খান

মানুষ মরণশীল।প্রত্যেকেই মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করতে হয়। তা স্বত্বেও মানবিক দুর্বলতার কারণে আপন জনের মৃত্যুটা সহজে সহ্য করা যায় না। হৃদয় ব্যথিত হয়, প্রবাহিত হয় অবিরাম অশ্রুধারা।  পুরোনো স্মৃতিগুলো হৃদয়ে তুলে বেদনার ঢেউ মনের মধ্যে বিরাজ করে শূন্যতা।

মানসিক প্রশান্তি ও মৃত ব্যক্তির নাজাতের জন্য যখন কুরআন তেলাওয়াত করে বসি তখন ভেসে ওঠে মহান আল্লাহর বাণী, (আল্লাহ) মৃত্যু ও জীবন সৃষ্টি করেছেন যাতে তিনি তোমাদেরকে পরীক্ষা করতে পারেন,কে তোমাদের মধ্যে আমলের দিক থেকে উত্তম।আর তিনি মহা-পরাক্রমশালী, অতিশয় ক্ষমাশীল।(সূরা আল মুলক- ২)

মহান আল্লাহ যে পরীক্ষার জন্য জীবন ও মরণের সৃষ্টি করেছেন আমি কি সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য কোন প্রস্তুতি নিয়েছি?
আমলে সালেহ বা সৎ কাজ কতটুকু করেছি!পরকালে আমার অবস্থানই বা কোথায় হবে! উদাসীন মনে কখনো কি এমন প্রশ্নের উদয় হয়?

রাসূল স. এক ব্যক্তিকে উপদেশ দিতে গিয়ে বলেন,পাঁচটি জিনিসের আগে পাঁচটি জিনিসের গুরুত্ব দিও; 

  • ১. বার্ধক্য আসার আগে যৌবনকালকে
  • ২.রোগ হওয়ার আগে সুস্থতাকে
  • ৩.দারিদ্রতা আসার আগে সচ্ছলতাকে
  • ৪.ব্যস্ততা আসার আগে অবসরকে
  • ৫.মৃত্যুর আগে জীবনকে। (মেশকাত)

আপনজনের মৃত্যুতে পরকালের কথা বেশি স্মরণে আসে।তাই আপন জনের মৃত্যুতে মর্মাহত হয়ে অনেকেই লোভ,লালসা, হিংসা -বিদ্বেষসহ সকল পাপাচার পরিত্যাগ করে। আল্লাহর আদেশ ও রাসূলের সুন্নাহ মোতাবেক জীবন পরিচালনা করে।আর যারা দুনিয়াতে আল্লাহর হুকুম মোতাবেক চলে,রাসূলের আদর্শকে জীবনে বাস্তবায়ন করে এবং খারাপ কাজ থেকে নিজের নফ্স নিয়ন্ত্রণ করে মৃত্যুর সময় তাদেরকে সুসংবাদ দিয়ে বলা হবে,“হে বিশ্বস্ত আত্মা, তুমি তোমার পালনকর্তার দিকে প্রত্যাবর্তন কর সন্তুষ্ট ও সন্তোষভাজন অবস্থায়।অতঃপর আমার উপাসনায় মনোনিবেশ কর এবং আমারই জান্নাতে প্রবেশ কর।”(সুরা আল ফজর ২৭-৩০)

মৃত্যুর স্বাদ আমাদের প্রত্যেকেই আস্বাদন করতে হবে।আপন জনের মতোই একদিন চলে যেতে হবে এ পৃথিবী ছেড়ে।সব কিছু স্বাভাবিক থাকবে।শুধু থাকবে না আমাদের উপস্থিতি।তাই নিজের মৃত্যু আসার আগেই পরকালীন জীবনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা দরকার।দরকার আমলে সালেহ তথা সৎ কাজের মাধ্যমে পরকালের সঞ্চয় বৃদ্ধি করা।আল্লাহ তায়ালা বলেন, “নিশ্চয়ই যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তাদের অভ্যর্থনার জন্যে রয়েছে জান্নাতুল ফেরদাউস।”
(সুরা কাহাফ- ১০৭)

অতএব আমাদের কর্তব্য হলো আপন জনের মৃত্যুতে আর্তনাদ না হয়ে ধৈর্য ধারণ করা।পরকালের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা।

লেখক,
শিক্ষার্থী, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: