পোশাক-পরিচ্ছদ সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি ও নীতিমালা

 মাওলানা মুহাম্মাদ ইয়াহইয়া 


ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। জীবনের সকল ক্ষেত্রে ইসলামের দিক-নির্দেশনা রয়েছে। পোশাক-পরিচ্ছদের বিষয়েও ইসলামের মৌলিক দিক নির্দেশনা রয়েছে। এ নিবন্ধে পোশাক-পরিচ্ছদ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত কিছু আলোচনা করতে চাই।

এ সম্পর্কে সমাজে যেসব ভুল-ভ্রান্তি ও শিথিলতা লক্ষ্য করা যায় তার পিছনে বিভিন্ন কারণ রয়েছে। এ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় হলো–

১. অজ্ঞতা ও অবহেলা

এ বিষয়ে শরীয়তের কী কী মূলনীতি ও বিধান রয়েছে সে সম্পর্কে আমাদের অনেকেরই জানাশোনা নেই। উপরন্তু অনেকের এই ধারণাই নেই যে, পোশাক-পরিচ্ছদ সম্পর্কেও শরীয়তের বিধি-বিধান থাকতে পারে। একে তারা পুরোপুরিই ইচ্ছা-স্বাধীনতার বিষয় মনে করে।

এই ধারণা ঠিক নয়। শরীয়ত এ বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। কুরআন কারীম এবং হাদীস শরীফে এ সম্পর্কিত উসূল ও আহকাম তথা নীতি ও বিধান রয়েছে। একই সঙ্গে মানুষের রুচি ও স্বভাবের প্রতিও একটা পর্যায় পর্যন্ত শরীয়ত অনুমোদন দিয়েছে। সুতরাং এ বিষয়ে একেবারে উদাসীন থাকা, মনমতো চলা ভুল।

২. বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুসরণ ও ফ্যাশন-আসক্তি

পোশাক-আশাক ও সাজসজ্জার বিষয়ে সমাজে বিজাতীয় সংস্কৃতি ও ফ্যাশনের বড় প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। যখন যে ফ্যাশন বের হচ্ছে, তখন নির্বিচারে অনুকরণকেই ‘আধুনিকতা’ মনে করা হচ্ছে। আর এ ক্ষেত্রে অমুসলিম বা ফাসেক লোকদের রীতি-নীতিই অধিক অনুকরণীয় হতে দেখা যায়।

এসবই ভুল। বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুকরণ শরীয়তের দৃষ্টিতে অত্যন্ত ঘৃণিত। হাদীস শরীফে এসেছে–“যে ব্যক্তি যে সম্প্রদায়ের সাথে সামঞ্জস্য রাখে, সে তাদের দলভুক্ত।” (সুনানে আবু দাউদ, ২য় খণ্ড, ৫৫৯ পৃষ্ঠা)

৩. অনেকের ধারণা : ‘মন ভালো হওয়াই যথেষ্ট’

যারা পোশাক ও সাজসজ্জার বিষয়ে মনমতো চলতে চায় কিংবা বিজাতীয়দের অনুকরণ করতে পছন্দ করে, তারা তাদের দুর্বলতা ঢাকতে গিয়ে বলে থাকেন, ‘মন ভালো হওয়াই যথেষ্ট। বাইরের লেবাস-পোশাকে কী আসে যায়?’ এভাবে তারা ইসলামের শিক্ষাকে খাটো করতে চায়। অনেক সময় দেখা যায়, ইসলামী পোশাকধারী কোনো ব্যক্তির কোনো ভুল হয়ে গেলে তখন তারা এই সব কথা বড় গলায় বলতে থাকে।

এসবই ভুল। ভিতর ও বাহির দু’টোর প্রতিই ইসলামে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কুরআন মজীদে এসেছে, “তোমরা প্রকাশ্য গুনাহ ছাড় এবং আভ্যন্তরীণ গুনাহ ছাড়।” (সূরাহ আনআম, আয়াত নং ১২০)

কারো মধ্যে যদি কোনো দোষ থাকে, তাহলে অবশ্যই তা তার দোষ, কিন্তু একে ছুতো বানিয়ে তার গুণটাকে অস্বীকার করা বা তার আদর্শকে কটাক্ষ করা তো ভালো নয়।

মোটকথা, ইসলামে লেবাস-পোশাকের গুরুত্ব কম নয়। পোশাক-পরিচ্ছদ যদিও বাহ্যিক বিষয়, মানুষের সকল ভালো-মন্দের দলীল এটা নয়, কিন্তু একথাও তো অনস্বীকার্য যে, লেবাস-পোশাকেরও একটি বড় প্রভাব মানুষের স্বভাব ও আচরণের উপর পড়ে থাকে। এটা কি অস্বীকার করা যাবে যে, কিছু পোশাক অন্তরে অহংকার ও আত্মগরিমা সৃষ্টি করে, অন্যদিকে কিছু পোশাক বিনয় ও নম্রতা জাগ্রত করে? কিছু পোশাক ভালো কাজে ও ভালো ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করে, অন্যদিকে কিছু পোশাক মন্দ ও অকল্যাণের দিকে আকর্ষণ করে?

৪. দ্বীনদারদের পোশাককে ‘সম্প্রদায়িক’ পোশাক মনে করা

অনেকে ইসলামী পোশাককে সৌদী, পাকিস্তানী বা হুজুরদের ইউনিফর্ম মনে করে থাকে। ফলে নামায-রোযা ইত্যাদি ইবাদত-বন্দেগী করলেও তারা এই পোশাক গ্রহণ করতে পারেন না।

তাদের এ ধারণা ভুল। সামান্য চিন্তা করলেই দেখা যাবে যে, ইসলামসম্মত পোশাক মানে কোনো সাম্প্রদায়িক বা আঞ্চলিক পোশাক নয়। হ্যাঁ, তা মুসলমানের পোশাক বটে। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে–“তাক্বওয়ার পোশাকই হচ্ছে উত্তম।” (সূরাহ আ‘রাফ, আয়াত নং ২৬)

পোশাক সম্পর্কে ইসলামী নীতিমালা

সঠিক জ্ঞানের অভাবে অনেকে সঠিক পোশাক অবলম্বন করতে পারেন না। এ প্রসঙ্গে ইসলামে কিছু নীতি ও বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা নারী-পুরুষ সকলের জন্য প্রযোজ্য। আবার কিছু স্বতন্ত্র বিষয়ও রয়েছে। প্রথমে সাধারণ কিছু নীতি উল্লেখ করছি–

১. সতর আবৃত করা

পোশাক এমন হতে হবে যা পুরোপুরি সতর আবৃত করে। পুরুষের জন্য নাভি থেকে হাটুর নিচ পর্যন্ত আর নারীর পুরো শরীর সতর। পোশাকের প্রধান উদ্দেশ্যই হল সতর ঢাকা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, “হে বনী আদম! আমি তোমাদের জন্য অবতীর্ণ করেছি পোশাক, যা তোমাদের লজ্জাস্থান আবৃত করে এবং সৌন্দর্য দান করে।” (সূরা আ’রাফ, আয়াত নং ২৬)

সুতরাং যে পোশাক এই উদ্দেশ্য পূরণে ব্যর্থ, তা যেন শরীয়তের দৃষ্টিতে পোশাকই নয়। তা নাজায়েয পোশাক। এটা পরিত্যাগ করে পূর্ণরূপে সতর আবৃত করার মোত পোশাক গ্রহণ করা জরুরী। যেমন, পুরুষের জন্য হাফপ্যান্ট পরা। মহিলাদের পেট-পিঠ উন্মুক্ত থাকে এমন পোশাক পরিধান করা।

২. অধিক পাতলা বা আঁটশাট না হওয়া

যে পোশাক পরিধানের পরও সতর দেখা যায় কিংবা সতরের আকৃতি পোশাকের উপরে ফুটে উঠে, তা-ও সতর আবৃত না করার কারণে নাজায়েয পোশাকের অন্তর্ভুক্ত। এ ধরনের পোশাক পরিধান করা হারাম।

হাদীস শরীফে রাসূলুল্লাহ  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “দুই প্রকার জাহান্নামী মানুষ আসবে, যাদেরকে আমি আমার যুগে দেখতে পাচ্ছিনা : এক প্রকার হচ্ছে ঐ সকল মহিলা–যারা ‘কাপড় পরিধান করেও উলঙ্গ’ থাকবে। তারা সাজ-সজ্জা করে পর-পুরুষকে আকৃষ্ট করবে এবং নিজেরাও অন্য পুরুষদের প্রতি আকৃষ্ট থাকবে। তাদের মাথার খোপা (সাজ সজ্জা ও ফ্যাশানের দরুণ) উটের কুঁজের মত এদিক-ওদিক হেলানো থাকবে। তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না, এমনকি তারা জান্নাতের সুগন্ধিটুকুও পাবে না। অথচ জান্নাতের সুগন্ধি পাঁচশ বছর রাস্তার দূরত্ব থেকেও অনুভব করা যাবে।” (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২১২৮)

৩. বিধর্মীদের পোশাক না হওয়া

বিধর্মীদের অনুকরণে পোশাক পরিধান করা নাজায়েয। যেমন, ইয়াহুদী-খৃষ্টান পুরোহিতদের পোশাক, হিন্দুদের ধুতি-লেংটি ইত্যাদি। হাদীস শরীফে এসেছে, “নিশ্চয়ই এটি কাফেরদের পোশাক। তোমরা তা পরিধান করো না।” (সহীহ মুসলিম, ৬ষ্ঠ খণ্ড, ১৪৪ পৃষ্ঠা)

অন্য এক হাদীসে এসেছে, “যে ব্যক্তি তাদের পোশাক পরবে, সে আমার দলভুক্ত নয়।” (তাবরানী-আওসাত, হাদীস নং  ৩৯২১)

৪. অহংকার-বড়ত্ব ও রিয়া সৃষ্টিকারী পোশাক না হওয়া

এমন পোশাক পরিধান করা নিষিদ্ধ–যেগুলোকে শরীয়ত অহংকারীদের নিদর্শন সাব্যস্ত করেছে এবং তা পরিধান করতে নিষেধ করেছে। যেমন, পুরুষের জন্য রেশমী কাপড় ব্যবহার করা। এ সম্পর্কে হযরত আবু মুসা আশ‘আরী  (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন–“আমার উম্মতের পুরুষের জন্য রেশম ও স্বর্ণ হারাম করা হয়েছে। আর মহিলাদের জন্য এগুলো হালাল করা হয়েছে।” (জামে তিরমিযী, হাদীস নং ২৭৯)

তদ্রূপ পুরুষদের জন্য টাখনু গিরার নিচে কাপড় পরিধান করা অহংকারের অন্তর্ভুক্ত। এ সম্পর্কে হযরত আবু জুরাই থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, “টাখনু গিরার নিচে কাপড় পরিধান থেকে বিরত থাক। কেননা, এটা অহংকারবশত হয়ে থাকে। আর আল্লাহ তা‘আলা অহংকারীকে ভালবাসেন না।” (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ২৭৫)

৫. অধিক চাকচিক্যপূর্ণ পোশাক না হওয়া

মানুষের মধ্যে প্রসিদ্ধি পাওয়ার লক্ষ্যে পোশাক নির্বাচন করা এবং  পোশাকের ভিন্নতা ও চাকচিক্য এজন্য বেছে নেওয়া যেন লোকসমাজে সে প্রসিদ্ধি পায় এটা নিষিদ্ধ। মানুষের নিকট আলোচিত ও প্রসিদ্ধ হওয়ার নিয়তে পোশাক গ্রহণ করা জায়েয নয়। হাদীস শরীফে এ ব্যাপারে কঠিন ধমকি এসেছে। রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, “যে ব্যক্তি দুনিয়াতে প্রসিদ্ধির পোশাক পরবে, আল্লাহ তা‘আলা কিয়ামতের দিন তাকে লাঞ্ছনার পোশাক পরাবেন। অতঃপর তাকে অগ্নিদগ্ধ করা হবে।” (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৪০২৯)

পুরুষের পোশাকের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য

(ক) নারীর পোশাক বা নারীর পোশাকের মতো পোশাক না হওয়া। সুতরাং পুরুষের জন্য মেয়েদের পোশাক পরিধান করা হারাম। হাদীস শরীফে এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অভিসম্পাত করেছেন ঐ পুরুষকে যে মহিলার পোশাক পরে এবং ঐ মহিলাকে যে পুরুষের পোশাক পরে “ (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৪০৯৮)
(খ) রেশমের কাপড় পরিধান না করা। কেননা, রেশমের কাপড় পুরুষের জন্য হারাম।
(গ) জাফরানী রংয়ের কাপড় না হওয়া। এটা পুরুষের জন্য নাজায়েয।
(ঘ) কুসুম রং কিংবা গাঢ় লাল রং না হওয়া। কেননা, পুরুষের জন্য কুসুম রং ও লাল রং মাকরূহ।

নারীর পোশাকের কিছু স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য

(ক) পুরুষের পোশাক বা পুরুষের সদৃশ পোশাক না হওয়া। হাদীস শরীফে এসেছে, “তিন শ্রেণীর লোক জান্নাতে প্রবেশ করবে না। একজন ঐ মহিলা, যে পুরুষের সাদৃশ্য গ্রহণ করে।”

নারীর জন্য পুরুষের মতো পোশাক পরিধান করা হারাম। কিন্তু আজকাল এটি ব্যাপক থেকে ব্যাপকতর হচ্ছে। মেয়েরাও এখন প্যান্ট-শার্ট পরছে! (নাউযুবিল্লাহ)

(খ) পুরো শরীর ঢাকা পোশাক হওয়া। মহিলাদের পোশাক এমন হওয়া চাই, যাতে গোটা দেহ আবৃত থাকে।

কিন্তু যতই দিন যাচ্ছে, ততই এমন এমন স্টাইলের পোশাক বের হচ্ছে, যাতে মেয়েদের শরীরের বিভিন্ন অংশ খোলা থাকে। অর্থাৎ সতর আবৃত করার পরিবর্তে তা আরো প্রকাশিত করে তোলাই যেন পোশাকের উদ্দেশ্য। যেমন, খোলামেলা শাড়ি, নারীর জন্য ওড়না ছাড়া দুই পোশাক প্যান্ট-শার্ট বা প্যান্ট-গেঞ্জি। এগুলো ফ্যাশনের নামে নোংরামি।

পুরুষের জন্য প্যান্ট-শার্টের হুকুম

এটি মূলে খৃস্টান ইংরেজদের পোশাক হিসেবে গণ্য। তবে এখন এটা ব্যাপকতা লাভ করেছে। এ অবস্থায় বিজাতীয় অনুকরণের উদ্দেশ্যে যে ব্যক্তি এই পোশাক পরবে, তার জন্য নাজায়েয হবে। কিন্তু যদি তাদের অনুকরণের নিয়ত না থাকে, তবে তার ক্ষেত্রে এই পোশাক পরলে বিজাতীয় পোশাক পরার গুনাহ হবে না বটে, কিন্তু এরপরও কিছু কারণে এটি অবৈধ পোশাকের অন্তর্ভুক্ত : যেমন-১. টাখনু গিরার নিচে হওয়া। ২. স্কিন টাইট অর্থাৎ এত আঁটশাট হওয়া যে, সতরের আকৃতি কাপড়ের উপর ফুটে উঠে এবং ঠিকভাবে বসে ইস্তিঞ্জা করা যায় না, আবার সিজদা করতে অসুবিধা হয়।

তবে প্যান্ট-শার্ট যদি উপরোক্ত খারাবী থেকে মুক্ত হয় এবং বিজাতীয় অনুকরণের উদ্দেশ্য না থাকে, তাহলে তা পরিধান করা নাজায়েয হবে না। অবশ্য এরপরও তা পরিধান করা মাকরূহ এবং তা ব্যবহার না করাই বাঞ্ছনীয়। (দরসে তিরমি,যী ৫ম খণ্ড, ৩৩২ পৃষ্ঠা/ কেফায়াতুল মুফতী, ৯ম খণ্ড, ১৬৮ পৃষ্ঠা/ আহসানুল ফাতাওয়া, ৮ম খণ্ড, ৬৪ পৃষ্ঠা)

টাই সম্পর্কে হুকুম

টাই যদিও আজকাল মিশ্র পোশাকের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে, কিন্তু এর সূচনা ইয়াহুদীদের শূলের প্রতীক হিসাবে হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রমাণ দ্বারা বুঝা যায়। তবে যেহেতু এ বিষয়টি অকাট্য তথ্যপ্রমাণপুষ্ট নয় আর মিশ্র পোশাক হিসাবেও এর প্রচলন হয়ে পড়েছে, তাই মুফতীগণ বলেন, এটা পরা একেবারে নাজায়েয না হলেও মাকরূহ হবে। তাই এর ব্যবহার এড়িয়ে চলা কর্তব্য। (ফাতাওয়া মাহমুদিয়া, ১২শ খণ্ড, ৪০৮ পৃষ্ঠা)

মহিলাদের জন্য শাড়ী পরার হুকুম

শাড়ী একসময় হিন্দু নারীদের পোশাক ছিল, কিন্তু এখন আর তাদের বিশেষ পোশাক থাকেনি। এখন এটা মিশ্র পোশাকের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে। সুতরাং শাড়ী পরলে এবং অনুকরণের নিয়ত না করলে বিধর্মীদের সাদৃশ্যের গুনাহ হবে না। তবে যেহেতু শাড়ী পরিধান করলে সাধারণত শরীরের বিভিন্ন জায়গা খোলা থাকে, যেমন–পেট, পিঠ, বুক হাতের বাহু ইত্যাদি, তাই এভাবে শাড়ী পরিধান করা বৈধ হবে না। হ্যাঁ, কেউ যদি ব্লাউজ এমনভাবে বানায় যদ্দারা উপরোক্ত অংশগুলো পুরোপুরি ঢেকে যায় এবং উপরে চাদর পরার দ্বারা শাড়ীর উপর থেকে পেট-পিঠ ও বুকের আকৃতি ফুটে না উঠে, তাহলে তা পরিধান করা জায়েয হবে। (কেফায়াতুল মুফতী, ৯ম খণ্ড, ১৭০ পৃষ্ঠা)

শর্টকামিজ, ধুতি থ্রি-পিস প্রভৃতির হুকুম

এসব পোশাক অপসংস্কৃতি ও বিজাতীয় অনুকরণের অন্যতম দৃষ্টান্ত। শরীয়ত মেয়েদের সৌন্দর্য যথাসম্ভব ঢেকে থাকে এমন পোশাকে উদ্বুদ্ধ করেছে। কিন্তু বিজাতীয় নীতি এর উল্টো। তারা চায় এমন পোশাক, যার দ্বারা নারীর সৌন্দর্য আরো প্রকাশ পায়। তাই কামিজ থেকে শর্টকামিজ এবং যতই দিন যাচ্ছে তা আরো ছোট হচ্ছে এবং আঁটশাট হচ্ছে। এসব বেপর্দেগীর পোাশাক পরা কিছুতেই জায়িয হবে না।

অধিকন্তু কিছুদিন আগে মেয়েদের ধুতি থ্রি-পিস বের হয়েছে। ছেলেদের জন্য বের হয়েছে ধুতি পাঞ্জাবি সেট। নিচের অংশ একেবারে ধুতির লেংটির আদলে সেলাই করা। হঠাৎ দেখলে হিন্দু বলে ভ্রম হতে পারে। আসলে তারা হিন্দু নয়, আমাদেরই মুসলিম ভাই-বোন!

এ অবস্থাটা কতখানি দৈন্যের প্রমাণ বহন করে–তা বলাই বাহুল্য। এ ধরনের বিধর্মীসাদৃশ্য পোশাক পরা সম্পূর্ণ হারাম। এসব নাজায়িয পোশাক থেকে আমাদের দূরে থাকা কর্তব্য।

আপনার মন্তব্য