সুস্থ থাকতে হলে মেনে চলতে হবে ১১টি মূলনীতি – ডা. জাহাঙ্গীর কবীর

আমরা সকলে জানি, ইবাদাতের জন্য শরীর সুস্থ থাকাটা অত্যন্ত জরুরী।
সুস্থ শরীর আল্লাহর দেয়া নেয়ামত। এই নেয়ামতের খেয়ানত করা আসলে নিজের নফসের প্রতি জুলুম করা।
অথচ আমরা যদি ইসলামের কিছু নিয়ম মেনে চলি তবে কিন্তু সুস্থ থাকতে পারি ।
আমরা সকলেই যদি নিচের কথাগুলো মেনে চলি, তাহলে এটা আমাদের সকলের জন্য উপকারী হবে ; নিজের শরীরকে রোগমুক্ত রাখতে সাহায্য করবে। এটা সদকায়ে জারিয়া হিসেবে গণ্য হবে।

১. আমাদের সবার আগে যেটা করতে হবে নিজের জন্য ক্ষতিকর খাবারগুলো বর্জন করতে হবে। যেমন সকল প্রকার ভেজিটেবল তেল যেমন সয়াবিন ( মূলত ভেজিটেবল থেকে কোন তেল হয় না এই নাম একটি প্রতারণা), সকল প্রকার প্রসেস্ড্ ফুড, সাদা চিনি ইত্যাদি। এখানে আল্লাহ বলেছেন whole food খেতে যেটা আমাদের রোগ মুক্তি করবে।  প্রাকৃতিক খাবারই হল ঔষধ এটা আমাদের মনে রাখতে হবে।

২. আমাদের পরিমিত খাওয়ার সুন্নতের আমল করা। হাদীসে যেভাবে খেতে বলা হয়েছে ; এক ভাগ খাবার, এক ভাগ পানি, এক ভাগ খালি এবং স্বল্প আহার অর্থাৎ ক্ষুধা লাগলে খেতে হবে। লোভে পড়ে খাওয়া যাবে না । লোভে পাপ পাপে রোগ ব্যাধি।

৩. মাগরিবের পর পরই রাতের খাবার শেষ করা; ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত তিন/চার ঘণ্টা পূর্বে রাতের খাবার শেষ করা। যেন খাবারের হজম প্রক্রিয়া ঘুমাতে যাবার আগেই শেষ হয় ; তাহলেই শরীর ঘুমের ভেতর তার নিজস্ব গঠন, কোষ পরিষ্কার এবং আরোগ্যের কাজ করতে পারে ।

৪. সময় নিয়ে ধীরে সুস্থে চিবিয়ে চিবিয়ে ভালো করে খাওয়া। তাড়াহুড়া না করা। খাবার খাওয়াকে ইবাদাত মনে করা পূর্ণ মনোযোগের সাথে খাওয়া।

৫. সপ্তাহে দুইটি রোজা। মাসের মাঝখানে তিনটি রোজা। অন্যান্য নফল রোজা এবং ফরজ রোজা রাখার ব্যাপারে জোর দেয়া।রোজার মাধ্যমে দেহ এবং আত্মার পরিশুদ্ধি ঘটে। বিজ্ঞানের ভাষায় এটাকে বলে অটোফেজি। এটি আবিষ্কারের মাধ্যমে নোবেল প্রাইজ পেয়েছেন জাপানী বিজ্ঞানী অসুমী। মনে রাখবেন, বেশী খেলে আত্মা অসুস্থ হয়ে পড়ে। রোজা আত্মাকে শান্ত রাখতে ও পবিত্র রাখতে সহায়তা করে।

৬. বেশী বেশী নফল নামাজ এটা শরীর ভালো রাখতে এবং মনকে শান্ত রাখতে সহায়তা করে। মনে প্রশান্তি না থাকলে শরীরে stress হরমোন নিঃসরণ হয়, যেটা কিনা শরীরে অনেক ধরনের রোগ তৈরিতে সাহায্য করে। যেমন উচ্চ রক্তচাপ ডায়াবেটিস সহ আরো প্রায় একশ রকমের রোগ।

৭. সুস্থ থাকতে হলে Early অর্থাৎ এশার নামাজের পর ঘুমাতে যাওয়া এবং ভোরে উঠে তাহাজ্জুদ এবং ফজরের নামাজ পড়া জরুরী । আল্লাহ রাতকে দিয়েছেন বিশ্রামের জন্য আর দিনকে কাজের জন্য। রাত ১০টা থেকে দুইটা এই সময়ে শরীরে মেলাটোনিন বেশী থাকে তাই স্বপ্নবিহীন গভীর ঘুমের জন্য রাত ১০টার পূর্বে ঘুমাতে যাওয়া জরুরী। এক দিনের মোট তিন ভাগের এক ভাগ অর্থাৎ দিন রাত মিলিয়ে আট ঘণ্টা ঘুমানো জরুরী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো রাখার জন্য।

৮. আল্লাহ শরীরকে তৈরি করেছেন কাজ করার জন্য। আমরা যদি কায়িক শ্রম না করি, তাহলে শরীর সুস্থ থাকার কোন কারণ নেই। তাই আমাদের ব্যায়াম করা, হাটা, দৌড়ানো, সাঁতার কাটা, জিমে যাওয়া, যাদের সুযোগ আছে কায়িক শ্রম করা খুবই জরুরী। আমাদের নবী সা. পরিশ্রমী ছিলেন, সমর নায়ক ছিলেন, নিয়মিত ঘোড় দৌড় তীরন্দাজি প্রতিযোগিতা অনুশীলন করতেন করাতেন ।

৯. আমরা জানি সূর্যের আলোতে ভিটামিন ডি তৈরি হয়। তাই নিয়মিত রোদে যাওয়া খুবই জরুরী এবং প্রকৃতির কাছে যাওয়া, গাছের কাছে সবুজের কাছে যাওয়া, pure অক্সিজেন পাওয়া রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে অত্যন্ত জরুরী।

১০. মানসিক প্রশান্তি ছাড়া সুস্থতা অসম্ভব। তাই আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা রাখা। আখেরাতমুখী চিন্তা করা। বিপদ আপদকে গজব না মনে করে আল্লাহর দেয়া পরীক্ষা হিসাবে দেখা। এখানে সুরা বাকারার আয়াতগুলো থেকে রেফারেন্স দেয়া যেতে পারে। আর পজিটিভ চিন্তা করা। প্রশান্ত আত্মার জন্য আল্লাহর সাহায্য চাওয়া।

১১. ক্লান্ত শরীর এবং প্রশান্ত মন ভালো ঘুমের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং ভালো ঘুম ছাড়া সুস্থ থাকাটা প্রায় অসম্ভব।

প্রতিটি ইবাদত আল্লাহর জন্য। নিয়ত-গুনে বরকত। নিয়ত হবে আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং উনি খুশী হয়ে রোগ থেকে মুক্ত করবেন।

আল্লাহ আমাদের সকল রোগ থেকে শিফা দান করুন। আমীন, ইয়া রাব্বাল আলামীন।

লিখেছেন :
ডা. মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর কবীর
MBBS, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ,
লাইফস্টাইল মডিফায়ার।

2 thoughts on “সুস্থ থাকতে হলে মেনে চলতে হবে ১১টি মূলনীতি – ডা. জাহাঙ্গীর কবীর

  1. আসসালামু আলাইকুম। আপনার লেখাটি পড়ে খুব ভাল লেগেছে। চিন্তা করছি অভ্যাস কিভাবে চেন্জ করি?তবে ডা: ভাই সয়াবিনের বদলে সহজলভ্য পুষ্টিকর কোন তেল খেতে পারি জানালে খুব উপকৃত হতাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: