মুরসীকে হত্যা করা হয়েছে : মুসলিম ব্রাদারহুড

প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসীর মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে অভিহিত করেছে তার সংগঠন ইখওয়ানুল মুসলিমিন বা মুসলিম ব্রাদারহুড।

সোমবার (১৭ জুন) মুসলিম ব্রাদারহুডের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, মুহাম্মাদ মুরসীকে ক্রমান্বয়ে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। গ্রেফতার ও পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদ শুরুর পর মুরসীর শারীরিক অবস্থা খারাপ হতে থাকে এবং এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার মিশরের আদালতের মধ্যে তিনি ইন্তেকাল করেন।

উল্লেখ্য, মুহাম্মাদ মুরসী ইসলামী সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রথম সারির নেতা ছিলেন। ২০১২ সালে ব্রাদারহুডের প্রার্থী হিসেবে তিনি জনগণের ভোটের মাধ্যমে মিসরের প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

ক্ষমতা গ্রহণের এক বছরের মাথায় ২০১৩ সালে, তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইহুদিবাদী ইসরাইলের দোষর আবদেল ফাত্তাহ আল সিসির নেতৃত্বে এক রক্তক্ষয়ী সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অবৈধভাবে মুহাম্মাদ মুরসীকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়।

ক্ষমতাচ্যুত করার পর মুরসীকে কারাবন্দি করে পশ্চিমাদের সমর্থন পাওয়া সিসির সরকার। এরপর রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তিসহ তথাকথিত বিভিন্ন অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি করা হয় তাকে।

মৃত্যুর আগ থেকেই বিভিন্ন মহল থেকে জানানো হয়েছিল কারাগারে মুরসির শারীরিক অবস্থা মোটেও ভালো নয়, কারাগারে তার মৃত্যুও হতে পারে। ডায়াবেটিস আক্রান্ত মুরসীকে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে না বলে পরিবারের সদস্যদের পক্ষ থেকেও দাবি করা হয়েছিল।

ব্রিটিশ রাজনীতিক ও আইনজীবীদের একটি প্যানেল এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার ফলে মুরসীর শারীরিক অবস্থা যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তাতে তিনি অকালে মারা যেতে পারেন। তবে এসব বক্তব্যকে মোটেও গুরুত্ব দেয়নি মিশরের বর্তমান সরকার।

 

insaf

Leave a Reply

Your email address will not be published.

%d bloggers like this: