শাওয়ালের ছয় রোযার ফযিলত ও রমযানের কাযার সাথে মিলিয়ে রাখার হুকুম

রোযার মাসআলা, মাসাইল আহকাম, এই আর্টিকেলটিতে পাচ্ছেন... রোযা রাখার হুকুম অক্ষম ব্যক্তি কিভাবে রোযা রাখবে? রোযার ফিদয়া কি? রোযার ২টি রোকন তথা আবশ্যকীয় বিষয় যেসব কারণে রোযা ভেঙে যায়, তবে শুধু ক্বাযা করতে হয় যেসব কারণে রোযা ভেঙ্গে ক্বাযা-কাফফারা দুটোই ওয়াজিব হয়: রোযার কাফফারা আদায়ের নিয়ম যেসব কারণে রোযা ভাঙ্গে না, তবে মাকরূহ হয়ে যায় যেসব কারণে রোযা ভাঙ্গে না, মাকরূহও হয় না যেসব কারণে রোযা না রাখার অনুমতি আছে তবে পরবর্তীতে ক্বাযা করে নিতে হবে রোযার কিছু আধুনিক মাসায়েল যেমন , এন্ডোস্কপি , এনজিওগ্রাম, ইনজেকশন, ইনসুলিন, নাইট্রোগ্লিসারিন, ভেন্টোলিন ইনহেলার, ওষুধ বা অন্য কোন উপায়ে মহিলাদের মাসিক বন্ধ রাখার হুকুম

শাওয়াল মাসের ছয়টি রোযা রাখলে সারা বছর নফল রোযা রাখার সওয়াব আল্লাহ তাআলা ব্যক্তির আমলনামায় লিখে দেন।

এ রোযা রাখা নফল। শাওয়াল মাসের মাঝে একসাথেও এ রোযা রাখা যায়, কিংবা ভেঙ্গে ভেঙ্গেও রাখা যায়।

হযরত আবু আইয়ূব আনসারী রা. থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

مَنْ صَامَ رَمَضَانَ ثُمّ أَتْبَعَهُ سِتّا مِنْ شَوّالٍ، كَانَ كَصِيَامِ الدّهْرِ.

যে মাহে রমযানের রোযা রাখল এরপর শাওয়ালে ছয়টি রোযা রাখল এটি তার জন্য সারা বছর রোযা রাখার সমতুল্য হবে। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ১১৬৪

সহীহ মুসলিমের ভাষ্যকার ইমাম নববী রাহ. এই হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেন, ‘আমাদের মনীষীদের মতে, উত্তম হচ্ছে ঈদুল ফিতরের পরের ছয় দিন পরপর রোযাগুলো রাখা। তবে যদি বিরতি দিয়ে দিয়ে রাখে বা মাসের শেষে রাখে তাহলেও শাওয়াল মাসের রোযা রাখার ফযীলত পাওয়া যাবে। কারণ সব ছুরতেই বলা যায়, ‘রমযানের পরে শাওয়ালের ছয় রোযা রেখেছে।’ -শরহু সহীহ মুসলিম

উল্লেখ্য, রমযানের কাযা রোযার সঙ্গে শাওয়ালের ছয় রোযার নিয়ত করলে তা রমযানের কাযা হিসেবেই গণ্য হবে। এতে শাওয়ালের ছয় রোযা আদায় হবে না এবং তার সওয়াবও পাওয়া যাবে না। শাওয়ালের ছয় রোযার জন্যে পৃথকভাবে ছয়টি রোযা রাখতে হবে।

-বাদায়েউস সানায়ে ২/২২৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৯৭

আপনার মন্তব্য