ইস্তানবুলের ঐতিহাসিক ‘ব্লু মসজিদ’

সুলতান আহমেদ মসজিদ ইস্তানবুলের একটি ঐতিহাসিক মসজিদ যেটি ব্লু মসজিদ নামে পরিচিত। মসজিদটির ভিতরের দেওয়াল নীল রং এর টাইলস দিয়ে সুসজ্জিত বলে এই মসজিদটি ব্লু মস্ক বা নীল মসজিদ নামে পরিচিত। মসজিদটি ১৬০৯ থেকে ১৬১৬ সালের মধ্যে উসমানীয় সম্রাজ্যের সুলতান আহমেদ বখতি নির্মাণ করেন।

সুলতান আহমেদ মসজিদ ‘আয়া সফিয়া’ বা ‘হাজিয়া সফিয়া’ (বেহেশতী প্রজ্ঞা) নামেও পরিচিত। আসলে ‘নীল মসজিদ’ আয়া সোফিয়ার পাশে একটি  বাইজাইন্টাইন প্যালেসের ধ্বংসাবশেষের ওপর নির্মিত হয়। সেখানে মুসলমানরা নিয়মিত নামাজ পড়েন। তুরস্কের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটন স্থান এই মসজিদটি। ২০১২ সালে ৩৩ লাখ পর্যটক মসজিদটি পরিদর্শন করেন। বর্তমানে এ সংখ্যা আরও বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে।

নীল মসজিদ প্রথমে ৯০০ বছর খ্রিস্টানদের গির্জা এবং এরপর ৫০০ বছর মুসলমানদের মসজিদ হিসেবে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হয়ে রয়েছে। উসমানীয় খেলাফতের দায়িত্ব নিয়ে ফাতিহ সুলতান মোহাম্মদ এই মসজিদেই নামাজ পড়তেন। ইস্তাম্বুল জয়ের পর এক ডিক্রিতে তিনি আয়া সফিয়াকে মসজিদে রূপান্তর করার ঘোষণা দেন।

বাইজেন্টাইন সম্রাট জাস্টিনিয়ান ৫৩৭ সালে আয়া সফিয়া নির্মাণ করেন। তিনি স্পেন থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিশাল সাম্রাজ্যের অধিপতি ছিলেন। গ্রিক ভাষায় আয়া সফিয়া নামের এই গির্জাটি তখন খ্রিস্টানদের কাছে ছিল অতুলনীয়।

১৪৫৩ সালে সুলতান ফাতিহ মোহাম্মদ দ্বিতীয় ইস্তাম্বুল দখল করেন এবং এটাকে মসজিদে পরিণত করেন। এরদোগান তুরস্কের মুসলিম ঐতিহ্যের প্রতি জনগণকে আগ্রহী করে তোলায় আয়া সফিয়াকে আবার পূর্ণাঙ্গ মসজিদের রূপান্তর করার কাজ হাতে নেয়।

এই মসজিদ এলাকায় সুলতান আহমেদের কবর, একটি মাদরাসা এবং একটি হাসপাতাল আছে। মানুষের হাতে চিত্রিত জৌলুসপূর্ণ নীল রং এর টাইলস দিয়ে গড়ে উঠেছে এই মসজিদের ভেতরের দেয়াল। রাতের বেলা নীল আলো যখন ব্লু মস্কের পাঁচটি মূল গম্বুজ, ৬টি মিনার ও আটটি ছোট গম্বুজের উপর গিয়ে পড়ে তখন এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা হয়। সেই ১৬১৬ সাল থেকে এখন পর্যন্ত জৌলুস ধরে রেখে সারা পৃথিবীর পর্যটকদের ইস্তাম্বুলের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে এই নীল মসজিদ।

উল্লেখ্য, প্রায় ১০ হাজার মানুষ একসঙ্গে নামাজ কায়েম করতে পারে এই মসজিদে। তবে একটা ব্যাপার মনে রাখবেন- এই মসজিদে প্রবেশের সময় পোশাকের ব্যাপারে কিছু বিধিনিষেধ আছে। সম্পূর্ন ইসলামি পোশাক ছাড়া মসজিদের ভেতর প্রবেশ নিষেধ।

গ্রন্থনা ও সম্পাদনা : রকিব মুহাম্মাদ

আপনার মন্তব্য