ব্যাংকে সুদ আছে কি না?

    Misbah asked 3 months ago

    আমি জানতে চাচ্ছি, ইসলামী ব্যাংকগুলম সুদের সাথে জড়িত কি না

    1 Answers
    সাঈদ আল হাসান Staff answered 1 month ago

    সুদী লেনদেন খুবই ভয়াবহ গোনাহের কাজ। এ থেকে প্রতিটি মুসলমানেরই বেঁচে থাকার চেষ্টা করা উচিত।
    সুদ তথা রেবা অনেক ভাবেই হতে পারে। যেমন-
    ১-কাউকে ঋণ প্রদান করে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বেশি গ্রহণ করা। যেমন পাঁচ হাজার টাকা ঋণ দিয়ে শর্ত করে দেয়া সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হবে।
    ২-ঋণ প্রদান করে কোন সুবিধা আদায় করাও সুদের মাঝে শামিল।
    সুদী লেনদেনের আরো অনেক সুরত হতে পারে।
    এসব সুদ প্রদান করা যেমন গোনাহের কাজ। গ্রহণ করা আরো মারাত্মক গোনাহের কাজ।
    কুরআনে কারীমে ইরশাদ হচ্ছে-
    يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَذَرُوا مَا بَقِيَ مِنَ الرِّبَا إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ [٢:٢٧٨]
    হে ঈমানদারগণ,তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সুদের যে সমস্ত বকেয়া আছে,তা পরিত্যাগ কর,যদি তোমরা ঈমানদার হয়ে থাক। [সূরা বাকারা-২৭৮] يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَأْكُلُوا الرِّبَا أَضْعَافًا مُّضَاعَفَةً ۖ وَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ [٣:١٣٠]
    হে ঈমানদারগণ! তোমরা চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ খেয়ো না। আর আল্লাহকে ভয় করতে থাক, যাতে তোমরা কল্যাণ অর্জন করতে পারো। [সুরা আলে ইমরান-১৩০] হাদীসে ইরশাদ হয়েছে-
    عَلِيًّا يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «كُلُّ قَرْضٍ جَرَّ مَنْفَعَةً فَهُوَ رِبًا
    হযরত আলী রাঃ বলেন, রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন, প্রতিটি ঋণ যে উপকারীতা সৃষ্টি করে, তা’ই সুদ। [মুসনাদুল হারেছ, হাদীস নং-৪৩৭, সুনানে সাগীর লিলবায়হাকী, হাদীস নং-১৯৭১, মুসন্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-২০৬৯০}
    عبد الله بن مسعود عن أبيه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال لعن الله آكل الربا وموكله وشاهديه وكاتبه
    হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাঃ এর পিতা থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-“যে সুদ খায়, যে সুদ খাওয়ায়, তার সাক্ষী যে হয়, আর দলিল যে লিখে তাদের সকলেরই উপর আল্লাহ তায়ালা অভিশাপ করেছেন। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং-৩৮০৯, মুসনাদে আবি ইয়ালা, হাদিস নং-৪৯৮১)
    আমাদের অনুসন্ধান অনুপাতে বাংলাদেশের কোন ব্যাংকই ইসলামের পূর্ণ রীতি মেনে ব্যাংকিং করে না। তাই তাদের সাথে লভ্যাংশের চুক্তি করা জায়েজ হবে না।
    বাকি প্রয়োজনের খাতিরে একাউন্ট খোলা জায়েজ আছে। যে লভ্যাংশ/মুনাফা প্রদান করবে ইসলামী ও অন্যান্য ব্যাংকগুলো তা সওয়াবের নিয়ত ছাড়া দান করে দিতে হবে।
    الضرورات تبيح المظورات
    তীব্র প্রয়োজন নিষিদ্ধ বিষয়কে বৈধ করে দেয়। {শরহুল কাওয়ায়িদিল ফিক্বহ লিজ জারক্বা, কায়দা নং-২০}