মা-বাবার অমতে বিয়ে করা প্রসঙ্গে

    প্রশ্নোত্তর বিভাগCategory: ধর্মীয় জিজ্ঞাসামা-বাবার অমতে বিয়ে করা প্রসঙ্গে
    MD. Din-Islam asked 4 months ago

    আমার চাচাত বোনকে আমার পছন্দ হয়-কওমি মহিলা মাদ্রাসায় মিশকাতে পড়ে, আমি কুমিল্লা ভারসিটিতে ৩য় বছরে পড়ি । আমার আম্মা-আব্বার সাথে ৩-৪ বছর আগে ওর আব্বার এক হাতাহাতি জগড়া হয়েছিল ।আমার আব্বাকে ওরা সবাই মিলে মারে । এ নিয়া মামলাও হয় ।এর মাঝে আমি অরে পছন্দ করি ।আব্বা বলে কোনোদিন সম্ভব না ।কোনোদিন মেনে নিব না ।আমি মরলেও মানব না ।তরে ছেলে থেকে বাদ দিয়া দিব ,তবু মানব না ।তুই এই মেয়েকে বিয়া করলে আমার জানাজা পড়াতে আসবি না।তোরে সব সম্পদ থেকে বঞ্চিত করব ।আর কোনোদিন ফেমিলিএর সাথে রিলেশন রাখতে পারবি না …।এই বলতেছে …।।এখন আমি কথা বলার গোনাহ থেকে বাচার কারনে গোপনে শুধু বিবাহ করেছি ,এটা কেউ জানে না,আমার আম্মা-আব্বা জানে না।আমি লেখাপড়া শেস করে সবাইকে জানাব । এখন আমার প্রশ্ন হলো – এই অবস্তায় আম্মা-আব্বা ছাড়া কি সংসার জীবন চালাইলে- আমার গোনাহ হবে কি? মরার পরে আমার কবরে কি আজাব হবে ?

    1 Answers
    সাঈদ আল হাসান Staff answered 4 months ago

    ইসলামী শরীয়তে বিবাহ শুদ্ধ হবার জন্য কয়েকটি শর্ত রয়েছে। যথা-

    ১) বর ও কনেকে কিংবা তাদের প্রতিনিধিকে ইজাব তথা প্রস্তাবনা ও কবুল বলতে হয়।

    ২) উক্ত ইজাব ও কবুলটি বলতে হয় দুইজন প্রাপ্ত বয়স্ক মসলিম পুরুষ বা একজন পুরুষ ও দুইজন মহিলার সামনে।

    ৩) ইজাব ও কবুলটি উভয় সাক্ষ্যি স্বকর্ণে শুনতে হবে।

    উক্ত তিনটির কোন একটি শর্ত না পাওয়া গেলে ইসলামী শরীয়তে বিবাহ শুদ্ধ হয় না।

    উপরোক্ত তিনটি শর্ত যখন পাওয়া যাবে তখন বিয়ে শুদ্ধ হয়ে যাবে। অভিভাবকের প্রয়োজন নেই। তবে বিশৃঙ্খলা থেকে বাঁচতে কুফু মিলিয়ে বিয়ে করা আবশ্যক।

    এবার আপনি নিজেই বের করে নিতে পারবেন, আপনার বিয়ে হয়েছে কি না?
    আর বিয়ে সম্পন্ন হয়ে গেলে তখন স্ত্রীর সাথে যে কোন কার্যকলাপে গোনাহের প্রশ্নই আসে না। কবরের আযাব তো দূরের কথা।

    فى الدر المختار- ( و ) شرط ( حضور ) شاهدين ( حرين ) أو حر وحرتين ( مكلفين سامعين قولهما معا ) (الدر المختار ، كتاب النكاح،-3/9)

    অনুবাদ-বিবাহ সহীহ হওয়ার শর্ত হল শরীয়তের মুকাল্লাফ [যাদের উপর শরীয়তের বিধান আরোপিত হয়] এমন দুইজন আযাদ পুরুষ সাক্ষি বা একজন আযাদ পুরুষ ও দুইজন মহিলা সাক্ষি হতে হবে, যারা প্রস্তাবনা ও কবুল বলার উভয় বক্তব্য স্বকর্ণে উপস্থিত থেকে শুনতে পায়। {আদ দুররুল মুখতার-৩/৯, ফাতওয়ায়ে হিন্দিয়া-১/২৬৮}