খেলাধুলা

Rakib asked 8 months ago
  1. প্রশ্নটি দাবা খেলা নিয়ে।একবার আমার এক বন্ধুকে দাবা খেলতে দেখে বললাম – এটা তো হারাম খেলা।কেনো খেলছো এটা?(তার সঙ্গে দীর্ঘ কথা হয়,তার সংক্ষিপ্ত যুক্তি এমন ; বরং তার উপস্থাপনা আরো শক্ত ছিলো।)সে বললো – এটি হালাল, বিশেষ করে মোবাইলে।দেখো সব খেলার মতো এটিও একটি খেলা কিন্তু তা হারাম কেনো ভেবে দেখেছো!হাদিসে আছে (সারমর্ম) – দাবা বা পাশা খেলা যাবে না; কারণ, তাতে মূর্তির উপস্থিতি আছে। আর ইসলামে মূর্তির কোনো অনুমতি নাই।এখানে হারামকারী কারণ শুধু \’মূর্তি \’। অন্য কারণ থাকতে পারে তবে তা হারাম হওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। আমি মোবাইলে খেলছি \’অনলাইন চেস\’, এখানে মূর্তির আকৃতি নাই। সুতরাং আমি খেলতে পারি।যদি বলো হাদিসে আছে দাবা খেলা যাবে না, তাই দাবা খেলা যাবে না।তাহলে কেউ যদি দাবার মতো অন্য একটি খেলা বানায় এবং তা মূর্তি দিয়ে আর ভিন্ন একটি নামও দেয়। তাহলে কি জায়েজ হবে! হাদিসে তো ওই নাম নাই!মোটকথা হারাম হওয়ার কারণ পাওয়া না গেলে হারাম কেমনে হবে।যদি অন্যভাবে বিচার করো – এতে তো সময় নষ্ট হয়। সময় নষ্ট হওয়ার কারণে খেলা যাবে না ; তাহলে তো ফেসবুকও চালানো যাবে না। সেখানে বিলিয়ন বিলিয়ন মানুষ এ্যাকটিভ থাকে অযথা।পাড়ায় এমন যুবকও পাবে যে দিনরাত ফেসবুক নিয়ে পড়ে থাকে। তখন তাকে কিছু বলা হয় না ; তার সময় কিছু হয় না?এখন পাবজি বের হয়েছে, য খেলতে খেলতে যুবকেরা হয়রান হয়ে যাচ্ছে, না তাদের দিন আছে ; না আছে রাত।তাদের ক্ষেত্রে তো – বাহ! পাবজি খেলো তুমি?এবার বলো সেখানে নাই মূর্তি?সেখানে হাজারও তাজা তাজা আস্ত মানুষের মূর্তি হেঁটে বেড়াচ্ছে। মোবাইল গেমের ৯৯ ভাগই মূর্তি দিয়ে তৈরি। আর পৃথিবীতে যত গেম আছে সবচেয়ে অস্পষ্ট মূর্তি হলো দাবায়। (আমি মোবাইলের কথা বলছি। ) মানুষের এমন অবস্থা হয়েছে যে – কেউ যদি জীবনেও এক ওয়াক্ত নামায না পড়ে, তাকে ঔ পরিমান অভিশাপ দেয় না যে পরিমাণ একজন দাবা খেলোয়ারকে দেয়, যেনো পথিবীতে থাকার অধিকার তার নাই।এবার আসি সময়ের বিবেচনায় – একজন মানুষ ১ ঘন্টায় বেশি মনোযোগ দিয়ে দাবা খেলতে পারে না। যেখানে অন্য কিছুতে দিনরাত এক করে ফেলছে।দাবা গেমে পৃথিবী জুড়ে ৭-১০ হাজার মানুষ লাইনে থাকে। আর…। এটা মানি যে – দাবা নেশার খেলা, মানুষকে নেশাগ্রস্ত করে, কিন্তু এটাও সত্য যে এমনটা আগে হতো এখন নয়। এরচেয়ে বেশি নেশায় ফেলে এমন লাখো জিনিস মোবাইলে আছে।এবার আসি উপকার ও ক্ষতি – দাবার চে\’ বুদ্ধি বৃদ্ধি করে এমন গেম অন্তত পৃথিবীতে নাই। তাই তো – ইমাম শাফেয়ীসহ অনেকের মতে এটা জায়েজ।যেখানে বাকী প্রায় সব গেমে উপকার তো দূরের কথা, জীবন শেষ করার মতো ক্ষতি হয়।আর মজার ব্যাপার হলো – কোনো দাবাড়ু বোকা নয় বা কোনো বোকা এটি খেলতেও পারে না।এখন বিষয়টি এমন হলো – দাবা হারাম বলতে হলে বাকিসব হারাম বলতে হয়।মনে হয় ইমামগণ যদি জানতেন – মূর্তি ছাড়া দাবা খেলা যায়, তাহলে এটিকে মুস্তাহাবই বলতেন। ( আমার প্রশ্ন হলো – আমার বন্ধুর কথা কতোটা যুক্তিযু?)
1 Answers

আপনি এই লেখাটি পড়ুন 
https://adarshanari.com/featured/8442/