সাদ সাহেব বারবার রুজু করার পরেও কেন গৃহিত হচ্ছে না? দারুল উলূম দেওবন্দের ওজাহাতী বক্তব্য

সাদ সাহেব বারবার রুজু করার পরেও কেন গৃহিত হচ্ছে না? দারুল উলূম দেওবন্দের ওজাহাতী বক্তব্য

মুফতি আবুল হাসান শামসাবাদী 


মাওলানা সাদ সাহেব দিল্লির নিজামুদ্দিনে কয়েকবার রুজু করেছেন। এরপর বাংলাদেশে এসেও আম মজলিসে সবার সামনে রুজু করেছেন। তারপরও কেন তাঁর রুজু দারুল উলূম দেওবন্দ গ্রহণ করছে না? এভাবে বারবার রুজু করা সত্ত্বেও কি সাদ সাহেবের পক্ষ থেকে তা ইত্বমিনানী রুজু হিসেবে গণ্য হবে না? এ অবস্থায়ও দেওবন্দের উলামায়ে কিরাম কেন সাদ সাহেবের রুজুতে সন্তুষ্ট হতে পারছেন না?

এটা আজ একটি গুরুতর প্রশ্ন এবং এ প্রশ্ন অনেকেরই যারা সাদ সাহেবকে এভাবে বারবার রুজুর নামে হেস্তনেস্ত হতে দেখে তার প্রতি দয়ার্দ্র হয়েছেন। তারা এ ব্যাপারে দারুল উলূম দেওবন্দের সুস্পষ্ট বক্তব্য কামনা করেছেন।

সকলের মনের উৎকণ্ঠা নিরসনে এবং বিষয়টিকে স্পষ্টভাবে খোলাসা করতে ৩১ জানুয়ারী–২০১৮ ইং দারুল উলূম দেওবন্দের ফাতওয়া ওয়েবসাইটে এ সম্পর্কে এক ইশতিহার প্রকাশ করা হয়েছে। উক্ত ইশতিহারটি হুবহু নিম্নে প্রদান করা হলো–

 

উক্ত ইশতিহারটির বাংলা অনুবাদ

————————————————–

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

দারুল উলূম দেওবন্দ, ইউপি, ভারত।

স্মারক নং ২১৩                         তারিখ : ৩১/১/২০১৮

মাওলানা সাদ সাহেবের রুজুর ব্যাপার নিয়ে

জরুরী অবগতিপত্র

বিসমিহি তা‘আলা

বিগত দিনসমূহে জনাব মাওলানা সাদ সাহেব হযরত মুসা আলাইহিস সালাম সম্পর্কে বর্ণনাকৃত সেই ঘটনা থেকে রুজু করার ঘোষণা দেয়ার পর বিগত ক‘দিন ধরে দেশ ও বিদেশ থেকে মানুষ দারুল উলূম দেওবন্দের অবস্থান সম্পর্কে লাগাতার প্রশ্ন করে চলেছেন। তারা এ ব্যাপারে দারুল উলূম দেওবন্দের বর্তমান অবস্থান জানতে চাচ্ছেন।

এ প্রেক্ষিতে এ কথা সুপষ্টভাবে প্রকাশ করা দরকার যে, মাওলানা সাদ সাহেবের রুজুকে এই একটি ঘটনা পর্যন্ত তো ইত্বমিনানের উপযুক্ত সাব্যস্ত করা যায়; কিন্তু ইতোপূর্বে দারুল উলূম দেওবন্দের অবস্থানে মূলত মাওলানা সাদ সাহেবের বিপথগামী চিন্তাধারা নিয়ে যে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল, তার থেকে দৃষ্টি ফেরানো যাচ্ছে না। তার কারণ হলো, সাদ সাহেব কয়েকবার রুজু করার পরেও ক্ষণে-ক্ষণে তার এমন নতুন বয়ানসমূহ উপলব্ধ হচ্ছে, যেগুলোতে সেই আগের মতই তার মনগড়া দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ, ভুলকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য প্রমাণাদি পেশ এবং দাওয়াত সম্পর্কে তার নিজস্ব চিন্তাধারার ওপর কুরআন-সুন্নাহর ভুল উপস্থাপনা পরিলক্ষিত হচ্ছে। যার কারণে শুধু দারুল উলূম দেওবন্দ-এর উলামায়ে কিরামই নন, বরং অন্যসকল হকপন্থী আলেমগণও মাওলানা সাদ সাহেবের সামষ্টিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে মারাত্মক ধরনের অসন্তুষ্টি পোষণ করছেন।

বস্তুত আমরা এটা মেনে চলি যে, আকাবির রহিমাহুমুল্লাহু’র দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সামান্য বিচ্যূতিও অত্যন্ত ক্ষতিকর। তাই মাওলানা সাদ সাহেবকে অবশ্যই তার বয়ানসমূহে সতর্কতামূলক পন্থা গ্রহণ করতে হবে এবং আসলাফের পন্থায় কার্যসিদ্ধি করার পাশাপাশি শরয়ী দলীলসমূহের দ্বারা নিজের মনগড়া চিন্তাধারা প্রতিষ্ঠার প্রয়াস বন্ধ করতে হবে। কেননা, মাওলানা সাদ সাহেবের এই মনগড়া ইজতিহাদপনা দেখে এমন মনে হচ্ছে যে, আল্লাহ না করুন, তিনি এমন এক নতুন দল তৈরি করায় উদ্যোগী হয়েছেন, যারা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আত এবং বিশেষ করে স্বীয় আকাবিরের পথ ছেড়ে ভিন্নপথের অনুসারী হবে। আল্লাহ তা‘আলা আমাদের সকলকে আকাবির-আসলাফের পথের ওপর অবিচল রাখুন। আমীন।

যারা দারুল উলূম দেওবন্দের কাছে বারবার শরণাপন্ন হচ্ছেন, তাদেরকে পুনরায় অবহিত করা হচ্ছে যে, তাবলীগ জামা‘আতের অভ্যন্তরীণ (মুরব্বীগণের মাঝের) মতভেদের সাথে দারুল উলূম দেওবন্দের কোনো সম্পর্ক নেই–প্রথম দিন থেকেই আমরা এ ঘোষণা দিয়ে আসছি। অবশ্য যখনই কারো ভুল চিন্তাধারা ও ভ্রান্ত মতাদর্শ সম্পর্কে মানুষ দারুল উলূম দেওবন্দের স্মরণাপন্ন হয়েছে, দারুল উলূম দেওবন্দ সর্বদা উম্মতকে সঠিক পথ প্রদর্শনের চেষ্টা করেছে। দারুল উলূম দেওবন্দ এভাবে সত্য কথা প্রকাশ করে মানুষকে দ্বীনের সহীহ পথ প্রদর্শন করাকে নিজের দ্বীনী ও শরয়ী ফরজ-দায়িত্ব মনে করে।

         উক্ত ইশতিহারে স্বাক্ষর করেছেন :

       ১. মাওলানা আবুল কাসেম নুমানী
২. মাওলানা আরশাদ মাদানী
        ৩. মুফতী সাঈদ আহমদ পালনপুরী

…………………………..

১৩ জুমাদাল উলা ১৪৩৯ হিজরী

সিলমোহর–আল-জামি‘আতুল ইসলামিয়া-দারুল উলূম দেওবন্দ, ভারত।

 

——————————————————-

দারুল উলূম দেওবন্দের এ ইশতিহারটি সরাসরি দেখুন দেওবন্দের ফাতওয়া বিভাগের নিম্নোক্ত লিঙ্কে–

http://www.darululoom-deoband.com/urdu/articles/index.php?content=featured&display=detail&id=1062

ইশতিহারটি ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন নিচের লিঙ্কে

http://www.darululoom-deoband.com/urdu/articles/tmp/1517725590%20Tablighi%20Jamat_Zaruri%20Wazahat_31January18_130539-310118.pdf

2 COMMENTS

আপনার মন্তব্য